
|
৬ দশক ধরে হাদিয়া ছাড়াই তারাবি পড়ান যে মাদরাসার হাফেজরা
প্রকাশ:
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:০৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মমিনপুর মাদরাসা মসজিদে গত ছয় দশক হাদিয়া ছাড়াই হাফেজেরা খতমে তারাবির নামাজ পড়িয়ে আসছেন। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে এই মাদরাসার হিফজ বিভাগের। এসব তথ্য মাদরাসা ও মসজিদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা জানান। জেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরুত্বে মাদরাসা ও মসজিদের অবস্থান। রিকশা কিংবা অটোবাইক দিয়ে সহজে যাওয়া যায়। নদী পথে যাওয়ার উপায় রয়েছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে। চান্দ্রা-গল্লাক সংযুক্ত পাকা সড়ক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে সাহেব বাজার ও পূর্ব দিকে মাদরাসার ক্যাম্পাস। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গড়ে উঠা এই মাদরাসা দেখতে খুবই মনোমুগ্ধকর। মাদরাসা আঙ্গিনা মনজুড়ানো পরিবেশ। নদীর পশ্চিম পাশে মাদ্রাসার অবস্থান। দক্ষিণ দিক থেকে শুরু মাদরাসা ভবন। মাঝখানে তৈরি হয়েছে মসজিদ। খুবই সুন্দর নকশার দ্বিতল এই মসিজদে এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ মুসল্লি। মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, জেলা সদরের বিভিন্ন মসজিদে তারাবি নামাজ পড়ানো হাফেজদের হাদিয়া দেওয়া হলেও মুমিনপুর মাদরাসা ব্যতিক্রম। এই মাদরাসা মসজিদে কখনোই হাদিয়া দেওয়া ও নেওয়ার প্রচলন ছিল না এবং এখনো নেই। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাফেজ মাওলানা মুহসিন (র.) এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। এ বছর মাদরাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়ান হাফেজ মো. মাহমুদ ও হাফেজ ওবায়দা। হাফেজ মাহমুদ বলেন, আমি বিগত দুই বছর এই মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছি। আমি কখনো বিনিময়ে হাদিয়া নেইনি। এভাবে নামাজ পড়িয়ে আমি খুবই আনন্দিত। মুমিনপুর মাদরাসা মুহতামিম হাফেজ রাশেদ বলেন, প্রতিবছর এই মাদরাসা থেকে যেসব শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন করেন তারাই মুমিনপুর গ্রামের সবগুলো মসজিদে খতমে তারাবি পড়ান। একেক মসজিদে দুই থেকে ৪ জন হাফেজ নিয়োগ করা হয়। এবছরও নিয়োগ করা হয়েছে। মূলত এখানে যারা হিফজ সম্পন্ন করেন তারাই এসব মসজিদে তারাবি পড়িয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়। এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারে তারাবি শেষ করে মুসল্লিদের মিষ্টি খাওয়ানোর মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব শেষ করে। এমএম/ |