
|
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ
প্রকাশ:
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৪৫ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি দেশজুড়ে দায়িত্ব পালন করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ১৯৪৮ সালের মার্চে আন্দোলন সীমিত পরিসরে বিস্তার লাভ করে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে প্রতিবাদে সামিল হন এবং মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দমন-পীড়ন আন্দোলনের গতি থামাতে পারেনি; বরং ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর ৭ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা হয়। এরপর ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয় এবং একই বছরের ৮ মার্চ থেকে তা কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি আসে ২০১০ সালে, যখন জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে প্রতিবছর ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এনএইচ/ |