ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে খেলাফত মজলিস ৩৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দলের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
এ সময় দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। খেলাফত মজলিসের ইশতেহারটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। আমাদের আজাদীর আছে লম্বা ইতিহাস। দেশপ্রেমিক মানুষ যুগে যুগে আজাদীর জন্য জীবন দিয়েছেন। বৃটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে যেমন আমরা বুক টান করে দাঁড়িয়েছি তেমনি পাকিস্তানের জুলুম ও চাপিয়ে দেয়া পরাধীনতার বিরুদ্ধে জীবনক্ষয়ী যুদ্ধে এক সাগর রক্তের মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। এ জাতি কোন স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি। জুলুম শোষণের বিরুদ্ধে শহীদদের মিছিল লম্বা হচ্ছে। যদিও জনগণের প্রকৃত মুক্তি আজো স্বপ্নই থেকে গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের রক্ত সিঁড়ি পার হয়ে আমরা আবার দেশকে নিজেদের মতো গড়ার সুযোগ পেয়েছি। সমস্ত শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমাদের বীরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছি। একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা খেলাফত মজলিসের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের ৩৫ দফা নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষণা করছিঃ
১. জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা:
খেলাফত মজলিস ইতোপূর্বে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে 'জুলাই সনদ' ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান করবো এবং এর আলোকেই আগামীর রাষ্ট্র সংস্কার সম্পন্ন করা হবে। জুলাই আন্দোলন সময়কালীন গণহত্যা, শাপলায় সংঘটিত গণহত্যা, বিগত সময়ের গুম, খুন, হত্যা, বিডিআর হত্যাযজ্ঞসহ ফ্যাসিবাদী দু:শাসনামলে সংঘটিত সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করছি। কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস না করা এবং দেশে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পর্যায়ক্রমে খেলাফত আ’লা মিনহাজিন নবুয়্যাহ'র আদলে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
২. আইনের শাসন ও জবাবদিহীতা:
আমরা সরকারের মূলে কার্যকর জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই সরকার পরিচালনা করবে এবং সরকার তার সব কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপারে জনগণের কাছে দায়ী থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাদিহিতা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সরকার প্রধান ও রাষ্টপ্রধানের ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংসদ সদস্যদের কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করে তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত যে কোন ব্যক্তির কাজে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে সরাসরি আইনী ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং ক্রয় পদ্ধতি ব্যাপক সংস্কার করা হবে। পাবলিক সার্ভিসসহ সকল নিয়োগে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
৩. জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা:
সকল মানুষই জন্মগতভাবে এবং আইনের কাছে স্বাধীন ও সমান। কাউকে নির্যাতন, অমানুষিক অথবা অবমাননাকর আচরণ অথবা শাস্তি ভোগে বাধ্য করা যাবে না। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ভাষা, জাতীয়তা, জন্ম এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সকল মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা হবে। বৈষম্যমূলক, নিবর্তন ও নিপিড়ণমূলক আইনসমূহ বাতিল করা হবে। সমাজ থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। সবার জন্য নিরাপদ বাড়ি এ প্রতিপাদ্যে সকলের নিরাপত্তার প্রতি নজর দেয়া হবে। গুম, খুন এবং ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কঠোরভাবে বন্ধ করার অঙ্গীকার করছি। অমুসলিম নাগরিকদের উপাসনালয়, জান-মাল এবং সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা হবে।
৪. স্বাধীন গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা:
সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের ওপর থেকে অহেতুক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, সাংবাদিকতার মানোন্নায়নে এবং সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ নেয়া হবে। সংবাদ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য সমালোচনা এবং অন্যায় ও অযৌক্তিক কাজের প্রতিবাদ করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক চর্চা অবাধ করা ও নেতিবাচক চর্চার কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো যেসব আইন মানুষের কণ্ঠ রোধ করে এবং মুক্ত চিন্তার অন্তরায়, সেগুলো বাতিল বা সংস্কার করা হবে এবং আইনবিদদের মতামত নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রনয়ণ করা হবে। সকল রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জনগণের তথ্য অধিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। এটি পরিষ্কার যে, "মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে ইসলাম, আল্লাহ, রাসুল (সা.) এবং ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননা করা নয়।" অর্থাৎ, আমরা এমন কোনো বক্তব্য বা প্রচারণাকে সমর্থন করি না যা ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে গণ্য হয়।
৫. বিচার বিভাগ:
সামাজিক ন্যায়বিচার ও সামগ্রীকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিচারব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত সুবিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হবে; যা একটি উন্নত বিচারব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে মামলা-মোকাদ্দমার দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও আধুনিকায়ন করা হবে। একটি কার্যকর, স্বাধীন, সুদক্ষ ও গতিশীল বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিম্নআদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রীম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা হবে। বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় থাকবে। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সততা, দক্ষতা, আমানতদারিতা ও নৈতিকতার বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হবে।
৬. অর্থনীতি ও আর্থিক সুশাসন:
সুদ ব্যবস্থার অবসান এবং যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হবে, যাতে সমাজের কেউ অভুক্ত না থাকে এবং কোথাও কোনো অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে না উঠে। এতে ধনী গরীবের মাঝে কোন বৈষম্য থাকবে না আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশে এমন একটি অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা জনগণের উৎপাদন ক্ষমতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের সাথে সাথে সম্পদের সুষম বণ্টনও নিশ্চিত করবে। সব ধরণের দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১২% এ নিয়ে যাওয়া হবে। সকল অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। আর্থিক খাতে সব ধরণের দ্বৈত কর্তৃত্বের অবসান ঘটানো হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্বশাসন নিশ্চিত করা হবে। সকল আর্থিক খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। ব্যাংকিং নীতি, মুদ্রানীতি ব্যাপক সংস্কার করা হবে। ঋণ খেলাপীদের তালিকা তিন মাস পরপর জাতীয়ভাবে প্রকাশ করা হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হবে। ব্যাংক রেজুলেশন এক্টকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী দিয়ে দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হবে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। বিনিয়োগে কোন জ্বালানী সংকট থাকবে না। বেসরকারিখাতকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করা হবে। রপ্তানী ও আমদানী নীতি আমূল পরিবর্তন করা হবে। অর্থপাচার ও যাবতীয় চাাঁদাবাজি কঠোর হস্তে নির্মূল করা হবে। দেশকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ব্যাংক ব্যবস্থার নৈরাজ্য ও অস্থিরতা বন্ধ করে স্থিতিশীল ও উন্নত পদ্ধতি চালু করা হবে।
উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ প্রযুক্তির উন্নয়ন, মানসম্পন্ন মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন এবং উপকূলীয় জেলেদের জন্য ব্লু ইকোনমির আওতায় বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হবে। ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, সামুদ্রিক পর্যটন স্পট উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। সমুদ্রের তলদেশে খনিজ সম্পদ ও গ্যাস অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সামুদ্রিক শ্যাওলা চাষের মত নতুন খাত তৈরি করা হবে। ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন, এবং ব্লু ইকোনমির টেকসই উন্নয়নের জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গবেষণা জোরদার করা হবে। উপকূলীয় যুবকদের জন্য সামুদ্রিক পেশায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
৭. শিক্ষা:
মাতৃভাষা, যার যার ধর্মীয় ভাষা এবং আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজী ভাষা শিক্ষা সর্বত্র বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক থাকবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নীতি নৈতিকতার ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করা হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক তথ্য- প্রযুক্তি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। শিক্ষার লক্ষ্য হবে একটি উন্নত নৈতিক মানসম্পন্ন, বিজ্ঞান মনস্ক, যোগ্য ও দক্ষ জাতি গড়ে তোলা। বিনামূল্যে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ইচ্ছা, আগ্রহ, সামর্থ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে যাদের জন্য প্রজোয্য তাদেরকে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় স্থানান্তর করে কর্ম জীবনে প্রবেশের সাধারণ একটি সহজ ও সাধারণ ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা হতে ক্যারিয়ার নির্ভর পৃথক গ্রুপের প্রচলন করা হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সামরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে উন্নত মান সংরক্ষণ ও পর্যাপ্ত গবেষণার ব্যবস্থা করা হবে। উচ্চ শিক্ষায় মেধার মূল্যায়নে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আলিয়া ও কাওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদানসহ এর মানকে আরো উন্নত করা হবে। মক্তব শিক্ষাকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় পুরোহিতদের সামাজিক শিক্ষা ও প্রেষণায় নিয়োগ করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে আরো কার্যকর ও গতিশীল করা হবে তবে শিক্ষাকে ব্যবসায়িক পণ্য তৈরী করতে দেয়া হবে না। বৃত্তিমূলক ও কর্মসংস্থানমূখী শিক্ষার উপর যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। উপযুক্ত শিক্ষক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। শিক্ষা উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতকেও সহযোগীতা করা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে। মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের কমিটি গঠন প্রক্রিয়াসহ পরিচালনা নীতিমালা সংস্কার করা হবে। জাতীয় বাজেটের ৫% শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।
৮. প্রশাসনক ও আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা:
একটি সৎ, দক্ষ ও গণমুখী প্রশাসন উন্নত জাতি গঠনের জন্যে অপরিহার্য। তাই দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক এবং জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হবে। বিনা ওয়ারেন্টে/সাদা পোষাকে গ্রেফতারের কোন বিধান থাকবে না। পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে একটি দক্ষ, পেশাদার ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পুলিশ হবে জনগণের সেবক, কোনো নির্দিষ্ট দলের হাতিয়ার নয়। পুলিশের ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধিসহ সামগ্রীক জীবনমান উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে। সততা, দক্ষতা, নৈতিক ও মানবিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
৯. মুক্তিযুদ্ধ:
‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে’ ঐতিহাসিক মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মুক্তিযুদ্ধের এই আদর্শ নিশ্চিতকরণ ও তৎসঙ্গে জনগণের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ এবংযাবতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসী তৎপরতার মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি সঠিক তালিকা তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হবে এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে।
১০. বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি:
জনগণের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠিত করা হবে। বেকারত্ব সম্পূর্ণরূপে দূর করা হবে। ডিজিটাল হাব তৈরী ও ফ্রীল্যান্সিংসহ বিভিন্ন উপায়ে এক কোটি চাকুরী ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বাংলাদেশকে ব্যবসা বান্ধব করে গড়ে তোলা হবে। বিভিন্ন সেক্টরে নতুন নতুন উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরী করা হবে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগে সরকারি সাপোর্ট ও তদারকির ব্যবস্থা করা হবে। “বড় নিয়োগ পরীক্ষাগুলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের মতো বিভাগীয় শহরগুলোতেও নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি কর্মকমিশনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারি সকল চাকুরীর নিয়োগ পরীক্ষা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
১১. প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্রপ্রহরী দেশপ্রেমিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহকে সকল দিক থেকে আরও শক্তিশালী করে বিশ্বের আধুনিক ও উন্নত বাহিনীর উপযোগি রূপে গড়ে তোলা হবে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত ও ভারসাম্যপূর্ণ করা হবে। অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। উন্নত সমরাস্ত্র তৈরীতে মনযোগ দেয়া হবে। গোটা জাতিকে প্রতিরক্ষা কাজে প্রস্তুত রাখার উদ্দেশ্যে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ সব সক্ষম নাগরিকদের দুই বছর মেয়াদী সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
১২. নারী ও শিশু অধিকার:
দেশে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারী সমাজের সাম