
|
সংবিধান উপেক্ষা করে কাশ্মীরে মসজিদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ শুরু
প্রকাশ:
১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪৪ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
|
কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন মসজিদ ও সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টিকে ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করছেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তাদের মতে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নীরব হস্তক্ষেপ। তারা এটিকে যতটা আইনি বিষয় মনে করছেন তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক নীরব হস্তক্ষেপ। তাদের বক্তব্য হলো, কারো বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকলে এরকম স্পর্শকাতর পারসোনাল তথ্য সংগ্রহ করা আইনসম্মত নয়। এটি মূলত ভীতির সঞ্চার করারই উদ্দেশেই করা হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কার্যক্রমের আওতায় শুধু মসজিদ নয়, বরং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ-সংযুক্ত দাতব্য সংস্থা বায়তুল মাল এর সদস্যদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফরমে মসজিদের ধর্মীয় মতাদর্শ বা মাজহাব যেমন বেরেলভি, হানাফি, দেওবন্দি বা আহলে হাদিস ইত্যাদি উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আসন ধারণক্ষমতা, তলার সংখ্যা, নির্মাণ ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, মাসিক বাজেট, ব্যাংক হিসাব, পরিচালনা কাঠামো এবং মসজিদ যে জমির ওপর নির্মিত, তা সরকারি, ব্যক্তিমালিকানাধীন (মিলকিয়াত) না যৌথ মালিকানাধীন (শামিলাত) এসব তথ্যও চাওয়া হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে, যেমন হ্যান্ডসেটের মডেল, আইএমইআই নম্বর, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, প্যান নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা। এমনকি মোবাইলে ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর তালিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার তথ্যও চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক তথ্য হিসেবে মাসিক আয়-ব্যয়, সম্পত্তির মালিকানা ও সম্পদের আনুমানিক মূল্য উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাবা-মা, ভাইবোন ও সন্তানদের তথ্যও ফরমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফরমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্বে কোনো সশস্ত্র কার্যকলাপ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে বলেন, এই উদ্যোগ “ধর্মীয় বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল”। তিনি বলেন, “এই প্রথম এমন কিছু দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তাদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।” ২০১৭ সালে Justice K.S. Puttaswamy বনাম Union of India মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে Right to Privacy একটি মৌলিক অধিকার, যা Article 21-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। অর্থাৎ মোবাইল ব্যবহার, ব্যাংক তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত তথ্য ইত্যাদি সবই সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় পড়ে। তবে হ্যাঁ পুলিশ মামলা ছাড়াও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তবে তা করতে হলে চারটি কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। তৃতীয়ত, Doctrine of Proportionality অনুযায়ী রাষ্ট্র যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই তথ্য নিতে পারবে। নির্দিষ্ট সন্দেহ ছাড়া IMEI নম্বর, অ্যাপের তালিকা, পরিবারের সম্পদ বা বিদেশে আত্মীয়ের তথ্য সংগ্রহ অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে গণ্য হতে পারে। চতুর্থত, প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা থাকতে হবে। লিখিত আদেশ, তথ্য সংরক্ষণের সীমা ও অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা; এগুলো না থাকলে তা সরাসরি Article 21 লঙ্ঘন। আইনি দৃষ্টিতে, কোনো নির্দিষ্ট মামলা, FIR বা যুক্তিসংগত সন্দেহ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে টার্গেট করে ব্যাংক, IMEI, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিবার বা সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হলে সেটি Article 21 ও গোপনীয়তার অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য। পাশাপাশি এখানে Article 25 (ধর্ম পালনের স্বাধীনতা) ও Article 26 (ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার) ও প্রযোজ্য। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে নজরদারির আওতায় আনা হলে সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ একসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়ে। এমএন/ |