
|
মোবাইল দেখে কুরআন তিলাওয়াত: সওয়াব হবে কি?
প্রকাশ:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনে কুরআন তিলাওয়াতের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অনেক মুসলমানের মনে প্রশ্ন জাগে—মোবাইলের স্ক্রিনে কুরআন দেখে পড়লে কি সওয়াব পাওয়া যায়? এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়াহর ব্যাখ্যা তুলে ধরে বিস্তারিত ফতোয়া দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম। তিনি জানান, কুরআন মাজীদ মুদ্রিত মুসহাফ (মূল কপি) দেখে পড়া সর্বোত্তম ও অধিক সওয়াবের কাজ। কারণ মুসহাফ হাতে নেওয়া, স্পর্শ করা এবং সম্মানের সঙ্গে তিলাওয়াত করা—সবকিছুই আলাদা আলাদা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। ফতোয়ায় বলা হয়, মুদ্রিত কুরআন থেকে পড়লে আয়াতের প্রতি মনোযোগ, চিন্তা-ভাবনা (তাদাব্বুর) ও খুশু বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি মুসহাফ স্পর্শের ক্ষেত্রে অজু থাকা জরুরি হওয়ায় কুরআনের প্রতি সম্মান আরও সুদৃঢ় হয়, যা নিজেই সওয়াবের কারণ। তবে মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে কুরআন পড়লেও সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয় না। আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহের ওপর আশা রাখা যায় যে, মোবাইলে কুরআন তিলাওয়াত করলেও তিনি সওয়াব দান করবেন। বিশেষত যখন মুদ্রিত কুরআন সহজলভ্য নয় বা ভ্রমণের মতো পরিস্থিতিতে মোবাইলই একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। অজু সংক্রান্ত বিষয়ে ফতোয়ায় স্পষ্ট করা হয়েছে—মোবাইলের স্ক্রিনে যখন কুরআনের আয়াত খোলা থাকে, তখন কেবল স্ক্রিন অংশটিই কুরআনের পাতার হুকুমে গণ্য হবে। তাই অজু ছাড়া স্ক্রিনে সরাসরি স্পর্শ করা জায়েজ নয়। তবে মোবাইলের বাকি অংশ—যেমন ফ্রেম বা বডি—অজু ছাড়াও ধরা যাবে। হাদিসের আলোকে আরও বলা হয়, মুসহাফ দেখে কুরআন পড়ার সওয়াব মুখস্থ পড়ে পড়ার তুলনায় অধিক। কারণ এতে তিলাওয়াতের পাশাপাশি দেখা, স্পর্শ করা ও গভীরভাবে চিন্তা করার মতো অতিরিক্ত ইবাদত যুক্ত হয়। তবে যেভাবে পড়লে বান্দার খুশু, তাদাব্বুর ও একাগ্রতা বেশি হয়—সেই পদ্ধতিই তার জন্য উত্তম বলে বিবেচিত হবে। مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح (4/ 1487): ফতোয়াটি প্রকাশ করেছে দারুল ইফতা, জামিয়া উলূম ইসলামিয়া আল্লামা মুহাম্মদ ইউসুফ বিন্নোরী টাউন। ফতোয়া নম্বর: ১৪৪১০৯২০০৯২৯। ফতোয়ার শেষাংশে বলা হয়, সর্বোত্তম হলো—যখন সুযোগ পাওয়া যায়, তখন মুদ্রিত কুরআন থেকেই তিলাওয়াত করা। আর প্রয়োজনে মোবাইল থেকে পড়লেও আল্লাহর রহমত ও সওয়াবের আশা রাখা যাবে। ওয়াল্লাহু আ‘লাম বিস্সাওয়াব। এনএইচ/ |