রমজানে উমরা পালনের বিশেষ ফজিলত
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:১০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ইসলামে ইবাদত-বন্দেগির মূল্য শুধু বাহ্যিক রূপ বা পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না, বরং নিয়ত, সময় ও পরিস্থিতির গুরুত্বের ওপরও তা গভীরভাবে নির্ভরশীল। অনেক সময় সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পারিপার্শ্বিক দায়িত্ব, অভাব কিংবা অনিবার্য বাস্তবতা মানুষের ইবাদত-বন্দেগির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের জন্য রহমতের বিকল্প পথ খুলে দেন; যেন কেউ হতাশ না হয়, কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে না করে। পবিত্র রমজান মাসে উমরা আদায়ের যে অসাধারণ ফজিলত, নিম্নোক্ত হাদিসটি তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান (রা.) নামের এক আনসারী মহিলাকে বললেন, হজ আদায় করাতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন, অমুকের আব্বা অর্থাৎ তার স্বামী, কারণ পানি টানার জন্য আমাদের মাত্র দু’টি উট আছে। একটিতে সওয়ার হয়ে তিনি হজ আদায় করতে গিয়েছেন। আর অন্যটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজ করছে।

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমজান মাসে একটি উমরা আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান অথবা বলেছেন- আমার সঙ্গে একটি হজ আদায় করার সমান। -সহিহ বোখারি: ১৮৬৩

অতএব, আসুন আমরা আল্লাহর রহমতের এই সুবর্ণ সুযোগকে অবহেলা না করি। যাদের জন্য ফরজ হজ আদায় করা সম্ভব হয়নি, তারা যেন রমজানের পবিত্র সময়ে উমরা আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের নেকির পাল্লা ভারী করার চেষ্টা করি। আর যাদের সে সামর্থ্য নেই, তারা যেন অন্তত এই হাদিস থেকে আল্লাহর দয়ার ব্যাপকতা উপলব্ধি করে নিয়ত, ইখলাস ও ইবাদতে যত্নবান হই।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে তার নৈকট্য অর্জনের তওফিক দান করুন। আমিন।

এনএইচ/