
|
স্মৃতির পাতায় হজরত মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)-এর শেষ দরস
প্রকাশ:
১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
৮ জানুয়ারি ২০২৬। হজরতুল উস্তাদ হজরত মাওলানা আরশাদ মাদানী সাহেবের ইনআমী জলসায় তাঁর হৃদয় বিদীর্ণ করা অশ্রুসিক্ত বক্তব্য এবং খতমে বুখারিতে অপ্রয়োজনীয় রসম-রেওয়াজের প্রতি তাঁর ব্যথিত প্রতিক্রিয়া আমাদের স্মৃতির দরজায় আবার জোরে কড়া নাড়ল। স্মৃতির উপহার ভাণ্ডার এখনো সংযমও হলো না, আর কান্নাও পুরোপুরি থামল না। চারপাশের রঙ বদলে যাচ্ছিল। উজ্জ্বল মুখগুলোর দীপ্তি নিভে আসছিল ধীরে ধীরে। হঠাৎ হাতে এসে গেল এক পুরোনো ডায়েরি, স্মৃতির হলুদ গাছগুলো নিমেষে সবুজ হয়ে উঠল। এই কথা শুনে আমাদের হৃদয় আনন্দে লাফিয়ে উঠল। মনে হলো আজ বুঝি নসিহতের দীর্ঘ ধারা বইবে। কে জানত, এই কটি বাক্যই হবে তাঁর শেষ প্রাঞ্জল উচ্চারণ! এরপর শব্দ আসবে কিন্তু আর ব্যাখ্যা আসবে না। ইবারত পাঠ শুরু হলো। একে একে মুহাম্মদ শাদাব আজমী, আব্দুর রহমান এবং মুহাম্মদ আখলাদ পড়তে থাকলেন। শেষ পর্যন্ত আখলাদই পাঠ সম্পন্ন করলেন। হজরত কিছু বলতে চাইলেন, কিন্তু জিহ্বা সম্পূর্ণ অবশ। তারপর তিনি উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন। দারুল উলূম দেওবন্দের দারুল হাদিস এমন দৃশ্য বোধহয় আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। হজরত তালিবুল ইলমদের দিকে তাকিয়ে কাঁদছেন, আর তালিবুল ইলমরা তাঁকে দেখে হাহাকার করছে। বারবার বললেন। প্রতিটি উচ্চারণে বুকের ভেতর ভাঙনের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তালিবুল ইলমদের হেঁচকি তখন আর থামবার নয়। এরপর যেন আমাদের প্রাণ বেরিয়ে গেল। কেউ মসনদ আঁকড়ে ধরল, কেউ দেয়াল। এমন কান্না জীবনে আর কখনো আসেনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা তালিবুল ইলমরা দরসগাহেই বিলাপ করতে থাকল। পরদিন মুফতি সাহেবকে মুম্বাইয়ের পথে বিদায় জানাতে গিয়েও সেই একই দৃশ্য। তিনি আমাদের দেখে কাঁদলেন, আমরা তাঁকে দেখে কাঁদলাম। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল যে, যাদের কোনো সম্পর্কই ছিল না, তারাও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দেশ-বিদেশের আকাবির ও দারুল উলূমের অন্যান্য আসাতিযার পক্ষ থেকে দাওরায়ে হাদিসের তালিবুল ইলমদের উদ্দেশে সান্ত্বনার বার্তা পৌঁছাল। মাওলানা ইলিয়াস ঘুম্মান ও মাওলানা সালমান নাদভী সাহেবদের বার্তাও তাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অধম তালিবুল ইলমদের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছিল। এভাবেই আমাদের সেই বছরটি ইতিহাসের পাতায় এক ব্যতিক্রমী, বিপ্লবী অধ্যায় হয়ে রয়ে গেল। অবশেষে এই মহান ব্যক্তিত্ব আমাদের জীবন থেকে চিরবিদায় নিলেন। আর আমরা রয়ে গেলাম হাহাকার, শূন্যতা ও না-পাওয়ার এক জীবন্ত প্রতিকৃতি হয়ে। মূল: মাওলানা ইজাজুল হক খলিল কাসেমী, সহকারী মুদাররিস, দারুল উলূম দেওবন্দ |