আইনুল হক কাসিমীসহ গ্রেপ্তার আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলায় লেখক ও শিক্ষক, জুলাই যোদ্ধা  মাওলানা আইনুল হক কাসিমীসহ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত নিরীহ আলেমদের মুক্তির দাবিতে সিলেটে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুমা সিলেট কোর্ট পয়েন্টে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রেনেসাঁ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

রেনেসাঁর আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য মাওলানা মাহফুজ বিন আবদুল হাফিজের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সিলেটের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কিরাম, তাওহিদি জনতা এবং এবং স্কুল-মাদরাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ বলেন, মুফতি আইনুল হক কাসিমীকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা মাদরাসায় ক্লাসরত অবস্থায় তুলে নিয়ে গেছে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ফ্যাসিবাদী চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাওলানা কাসিমী নিরীহ একজন লেখক, শিক্ষক এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা। এমন দেশপ্রেমিককে গ্রেপ্তার করা জুলাই বিপ্লবের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দারুল আজহার মডেল মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা মনজুরে মাওলা বলেন, আলেমদের কণ্ঠরোধ করে অতীতে কেউ সফল হতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। যারা দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, তাদেরই আজ বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিয়ানাহ ট্রাস্টের আমির মুফতি জিয়াউর রহমান বলেন, যে আলিমসমাজ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ল, সেই স্বাধীন দেশেই আজ আলিমদের বিনা পরোয়ানায় তুলে নেওয়া হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের পর যারা খুনিদের পক্ষ নিয়েছিল, তারা আজ বীরদর্পে ঘুরছে, আর যারা রাজপথে লড়াই করল, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা ও আলিম-বিদ্বেষী এজেন্ডা বন্ধ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা অত্যন্ত পরিতাপের সাথে লক্ষ করছি, যে জুলাই বিপ্লবের রাজপথ আলিম-উলামা ও তাওহিদি জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সেই বিপ্লবের সুফল ভোগ করছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। অথচ জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা আইনুল হক কাসিমীর মতো নিরীহ আলিমদের আজ বিনা ওয়ারেন্টে তুলে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, আলিমদের ওপর জুলুম চালিয়ে কিংবা কণ্ঠরোধ করে অতীতে কোনো স্বৈরাচার টিকতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না। জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, কিন্তু আপনারা আলিমদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে সেই স্পিরিটকে ভূলুণ্ঠিত করছেন।

মানববন্ধন সফল করায় তিনি সিলেটের ছাত্র, শিক্ষক, সুধী সমাজ, সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনের যেকোনো কর্মসূচির ডাক দিলে সাড়া দেওয়ায় অনুরোধ জানান। এ ছাড়া প্রশাসনের সহযোগিতার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

মানববন্ধনে আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ‘রেনেসাঁর ৪ দফা দাবি’ উত্থাপন করেন। ৪ দফা দাবি মেনে না নিলে সারা দেশের তাওহিদি জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।

রেনেসাঁর ৪ দফা দাবি

১. ব্রিটিশ ও স্বৈরাচারী আমলের ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’ নামক কালো আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

২. ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া মাওলানা আইনুল হক কাসিমী, আতাউর রহমান বিক্রমপুরীসহ সকল জুলাই যোদ্ধা ও মাজলুমদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

৩. ফ্যাসিবাদী আমলে দায়ের করা সকল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আটক নিরীহ মানুষ এবং আলিম-উলামাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

৪. জেলগেট থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর মতো ন্যাক্কারজনক জুলুম এখনই বন্ধ করতে হবে।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট মডেল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবু সাইদ মুহাম্মদ উমর, তরুণ দাঈ মাওলানা আবদুল্লাহ মানসুর, মুফতি ইয়াহইয়া এবং মাওলানা আহমাদুল হক উমামা প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে কারাবন্দি সকল মজলুম আলেমের মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দুআ ও মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আরএইচ/