লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামে এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একই ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের জুয়েলের ছেলে রাব্বির সঙ্গে লাদেনের সামান্য বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাব্বি তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে ক্ষুব্ধ হয়ে লাদেন তাকে চড়-থাপ্পড় দেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করলেও উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ থেকে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে রাতে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একা বসে থাকা লাদেনের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে কিশোর মাদরাসাছাত্রের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/আইও