রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের তিনটি রিপোর্ট ইতোমধ্যেই পুলিশের হাতে পৌঁছেছে এবং প্রস্তুত রয়েছেন সাক্ষীরাও। পুলিশ সূত্র আশ্বাস দিয়ে জানায়, সব ঠিক থাকলে ফাঁসির রায় শুধু সময়ের ব্যাপার।
শনিবার (২৩ মে) রাতে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারের নির্দেশনার মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পুলিশ জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ময়নাতদন্তের তিনটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসেছে।
সাক্ষী হিসেবে কারা আদালতে উপস্তিত থাকছেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, উপযুক্ত সাক্ষীর পাশাপাশি যারা লাশ উদ্ধারের কাজ করেছেন, তারাও সাক্ষী। এছাড়া আসামি সোহেল রানা গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন তাকে দেখেছেন, তারাও সাক্ষী হিসেবে থাকবেন
তিনি বলেন, রুমের ভেতরে কীভাবে লাশ পাওয়া গেছে, কীভাবে লাশ উদ্ধার করে মর্গে নেওয়া হয়েছে—তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ কয়েকজন এ কাজ করেছেন, তারাও সাক্ষী।
ফরেনসিক সূত্র থেকে জানা যায়, নিহত শিশু রামিসার ময়নাতদন্তের সময় তার শরীর থেকে ডিএনএ, হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব (ধর্ষণের পরীক্ষা) এবং কেমিক্যাল অ্যানালাইসিসের (ভিসেরা পরীক্ষা) জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ল্যাবে পরীক্ষার পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক চিকিৎসক পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেন।
সূত্রটি আরও জানায়, রামিসার ময়নাতদন্তের আগে সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত্যুর আগে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষার অনুরোধসহ আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ফরেনসিক চিকিৎসক ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ভিসেরা পরীক্ষার জন্যও নমুনা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়।
এসব পরীক্ষার রিপোর্ট ফরেনসিক বিভাগে পৌঁছানোর পর ময়নাতদন্ত সম্পন্নকারী চিকিৎসক একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। সেই রিপোর্টে চিকিৎসকের নিজ চোখে দেখা লাশ অবস্থার বর্ণনাও উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়ে মোট তিনটি রিপোর্ট রয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনায় এক সপ্তাহের মধ্যে শিশু রামিসা হত্যা মামলার পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কাজ এগিয়ে চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও লিপিবদ্ধ করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ফাঁসির রায় শুধু সময়ের ব্যাপার।
জেডএম/
