
|
মাওলানা কালিম সিদ্দিকির মুক্তির চেষ্টায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ
প্রকাশ:
০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৮ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতে ধর্মান্তরকরণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিশিষ্ট আলেম মাওলানা কালিম সিদ্দিকিসহ কয়েকজনের জামিন আবেদন খারিজের পর এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। একই মামলায় কারাবন্দি মুফতি কাজী জাহাঙ্গীর ও ইরফান শেখের জামিনে মুক্তির জন্যও সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (৭ নভেম্বর) মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের সভাপতি মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশের কথিত জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ মামলায় মাওলানা কালিম সিদ্দিকিসহ কয়েকজনের জামিন আবেদন খারিজ করে লক্ষ্ণৌ হাইকোর্টের দেওয়া সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। কারণ, একই মামলায় একই আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন, অথচ একই সাজাপ্রাপ্ত অন্যদের আবেদন নাকচ করেছেন। নিম্ন আদালত সব আসামিকে একই ধরনের সাজা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার লক্ষ্ণৌ হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ মাওলানা কালিম সিদ্দিকি, কাওসার আলম, মুহাম্মদ উমর গৌতম, প্রসাদ রামেশ্বর কুরভে ওরফে আদম, ডা. ফিরাজ আবদুল্লাহ, মুফতি কাজী জাহাঙ্গীর, ইরফান শেখ এবং সালাহউদ্দিন জয়নুদ্দিন শেখের জামিন আবেদন খারিজ করেন। অন্যদিকে একই মামলার কুনাল অশোক চৌধুরী ওরফে আতিফ, মনু যাদব, রাহুল ভোলা, ভূপারিয়া বিন্দু ওরফে আরসালাম মুস্তফা, ধীরজ গোন্দ রাও জগতাপ, আবদুল্লাহ উমর ও সরফরাজ আলী জাফরিসহ কয়েকজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি বলেন, এ মামলায় আসামিদের জামিনের পথ প্রথম উন্মুক্ত হয়েছিল ইরফান শেখের জামিনের মাধ্যমে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথম তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী সময়ে ওই রায়কে নজির হিসেবে বিবেচনা করে লক্ষ্ণৌ হাইকোর্ট মাওলানা কালিম সিদ্দিকিসহ কয়েকজনের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। ইরফান শেখের মামলায় জমিয়তে উলামায়ে মহারাষ্ট্রের আইনি সহায়তা কমিটি কাজ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিত্যা রামকৃষ্ণন মামলাটি পরিচালনা করেন। তিনি আরও জানান, লক্ষ্ণৌ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানির নির্দেশনায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিত্যা রামকৃষ্ণনের সঙ্গে আইনজীবী শহিদ নাদিম আইনি পরামর্শ করছেন। দীপাবলির ছুটি শেষে দিল্লিতে এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠক আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে। মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, এ মামলায় স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণকারীদেরও আসামি করা হয়েছে এবং নিম্ন আদালতে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলাম গ্রহণকারী কয়েকজন আসামির জামিন হাইকোর্ট মঞ্জুর করেছেন। তাই মুফতি কাজী জাহাঙ্গীর ও ইরফান শেখসহ অন্য আসামিদের জামিনে মুক্তির জন্যও সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালানো হবে। তিনি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশে ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের পর এ আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর কোনোটিতেই রাজ্য সরকার হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে জয়ী হতে পারেনি। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে আসামিরা যথাসময়ে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একদিকে আসামিদের জামিনে মুক্তির চেষ্টা, অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলগুলোর দ্রুত শুনানির জন্যও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সূত্র: ইউএনএ নিউজ আইও/ |