আইএবি’র ‘সীরাত গবেষক সংবর্ধনা’ পেলেন এনামুল করীম ইমাম
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৪ রাত
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীরাতচর্চা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সীরাত গবেষক সংবর্ধনা’ পেয়েছেন শিক্ষক, সীরাত ও হাদিস গবেষক, লেখক, অনুবাদক ও কবি এনামুল করীম ইমাম। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত জাতীয় সীরাত সম্মেলনে তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে পীর সাহেব চরমোনাইর হাত থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন তিনি।

এর আগে সীরাত সম্মেলন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে আইএবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক জরুরি সভায় সীরাত গবেষক সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচজন গবেষকের নাম বাছাই করা হয়েছিল। পরে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনামুল করীম ইমামকে সংবর্ধনার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আইএবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ। উপস্থিত ছিলেন নগর সহসভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আব্দুল আউয়াল মজুমদার ও মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহ, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আব্দুল আহাদসহ নগর নেতৃবৃন্দ।

সীরাত ও ইসলামী সাহিত্যচর্চায় এনামুল করীম ইমাম

এনামুল করীম ইমাম বাংলাদেশের সীরাতচর্চা, ইসলামী ইতিহাস গবেষণা এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যাঙ্গনের পরিচিত লেখক ও গবেষক। মৌলিক রচনা ও অনুবাদের মাধ্যমে নবীজীবন, সাহাবায়ে কেরামের জীবন, ইসলামের ইতিহাস ও মুসলিম ঐতিহ্যকে পাঠকের কাছে তুলে ধরছেন তিনি। সীরাত, হাদিস, ইসলামী ইতিহাস, গল্প, উপন্যাস ও ভ্রমণসাহিত্যসহ বিভিন্ন শাখায় তাঁর রয়েছে বিস্তৃত কাজ। মৌলিক ও অনূদিত গ্রন্থ মিলিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ষাটের বেশি।

১৯৮৪ সালের ২ মার্চ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পশ্চিম বিভাগদী গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা আলহাজ রেজাউল করীম মোল্লা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং মা রিজিয়া করীম গৃহিণী। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবার প্রতিষ্ঠিত গ্রামের মকতবে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে কওমি মাদরাসায় ভর্তি হন। ১৯৯৭ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এরপর উলুমুল হাদিস ও ইসলামী ফিকাহ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণামূলক অধ্যয়ন করেন।

কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাদরাসা দারুর রাশাদে মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ইদারাতুল মাআরিফের সাহিত্য-সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক এবং মাদরাসা থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘আর রাশাদ’-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন। মানিকগঞ্জের জয়রায় একটি আধুনিক কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আরও কয়েকটি মাদরাসার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মাদরাসার দেয়ালিকায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু। পরে স্থানীয় পত্রিকা ছাড়িয়ে জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত লিখেছেন। সীরাতবিষয়ক তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘প্রিয়নবী (সা.)-এর ২৪ ঘণ্টার আমল’, ‘প্রিয়নবী (সা.)-এর পারিবারিক জীবন’, ‘গল্পে গল্পে আখলাকে নববী’, ‘প্রিয়নবী (সা.)-এর বিবাহের ইতিহাস’, ‘প্রিয়নবী (সা.)-এর রমজানের আমল’ ও ‘কাসাসুল হাদিস-২’। ‘উম্মুল মুমিনিন’ সিরিজে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীদের জীবন নিয়ে ছয়টি এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবন ও ঘটনাবলি নিয়ে সাতটি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তাঁর অনূদিত উল্লেখযোগ্য সীরাতগ্রন্থ ‘আসাহ-হুস-সিয়ার’।

ইসলামের ইতিহাসভিত্তিক তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘মুসলিমদের পারস্য বিজয়ের ইতিহাস’, ‘মূর্তি ভাঙার ইতিহাস’, ‘তুলায়হার তাওবা’, ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্র’, ‘ইস্তাম্বুল বিজয়’ ও ‘দিল্লি কলেজ’। ঐতিহাসিক উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘বেদনার লাল টিপ’, ‘পুলিশের বই’ ও ‘আল্লাহকে সব বলে দেব’।

তাঁর সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, ইসলামের ইতিহাস ও নবীজীবনের ঘটনাপ্রবাহকে সহজ, সাবলীল ও গল্পনির্ভর ভাষায় উপস্থাপন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপযোগী করে লেখা তাঁর বইগুলোতে নবীজির আদর্শ, সাহাবিদের জীবন ও ইসলামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে।

তিন সন্তানের জনক এনামুল করীম ইমাম শিক্ষকতা, গবেষণা, লেখালেখি ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মধ্য দিয়ে জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যসাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

আইও/