বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়ল আরও ৫ হাজার, মোট ৮৩ হাজার ৫০০
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৯ রাত
নিউজ ডেস্ক

২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য আরও ৫ হাজার কোটা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এতে আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৩ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৭ হাজার ৫০০ জন হজে যেতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী না যাওয়ায় কোটা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। গত বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেন। এ পরিসংখ্যান বিবেচনায় ২০২৭ সালের হজেও শুরুতে একই পরিমাণ কোটা বরাদ্দ দেয় সৌদি সরকার।

তবে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন চলাকালে নির্ধারিত কোটার চেয়ে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ফলে অতিরিক্ত আগ্রহীদের অপেক্ষমাণ রেখে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করে বাংলাদেশ সরকার।

এরপর হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে কোটা বাড়ানোর আবেদন জানায়। হজযাত্রীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবের ধর্মমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার পাঠান। পাশাপাশি কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়েও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ অক্টোবর সৌদি সরকার নুসুক মাসার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ৫ হাজার হজ কোটা অনুমোদন করে। পরদিনের মধ্যে এসব কোটা এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয় ২৮টি বেসরকারি লিড এজেন্সির মধ্যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কোটা বণ্টন করে।

যেসব এজেন্সি কোটা পেয়েছে

অতিরিক্ত কোটা পাওয়া ২৮টি বেসরকারি হজ এজেন্সির মধ্যে রয়েছে—এয়ার ট্রিপ ২১৭, আল-গাজী ৬৮, বাংলাদেশ ওভারসিজ ৪৯৩, আলহেরা ট্রাভেল ২২৪, আমিন ট্রাভেল ১১৫, মুবাল্লিগ ট্রাভেলস ১২৮, রাজশাহী ট্রাভেলস ১০১, গোল্ডেন বাংলা ১৩১, দ্য সিটি ট্রাভেল ২৩২, মডার্ন এয়ার ৬৯, এহসান এয়ার ১৩৯, তাকওয়া অতিথি ১৮১, আমদা ট্যুরস ১৯৯, আল কুতুব ট্রাভেল ৯৪, ধানসিঁড়ি ট্রাভেল ১১০, ফারিহা ওভারসিজ ১৮৬, লাব্বাইক ওভারসিজ ২০৮, সালসাবিল এভিয়েশন ১৯৯, মাবরুর এয়ার ট্রাভেল ১০১, মারহামা এয়ার ট্রাভেল ৮০, নর্দান ট্যুরস ১১০, সালাম ট্রাভেলস ২৪১, সিকদার ট্যুরস ৬৩, সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্স ২৯৪, উত্তরণ ট্রাভেলস ২৬৫, দ্য ইসলামিয়া ট্রাভেলস ৩২৪, সানশাইন এক্সপ্রেস ২০৯ এবং মিরপুর ট্রাভেলস ১১৯টি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য আরও হজ কোটা পাওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সেলর (হজ) এ বিষয়ে নিয়মিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমেও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।

তবে সৌদি আরবের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিনায় তাঁবু নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও প্রস্তুত তাঁবুর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ছাড়া তাঁবুতে সাধারণ ব্যবহারের জন্য জায়গা সংরক্ষণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাড়তি চাহিদার কারণে তাঁবু সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী আরও কোটা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আগামী ৯ নভেম্বর ২০২৬ সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

এসএইচ/