
|
শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়
প্রকাশ:
০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১০ রাত
নিউজ ডেস্ক |
|| আবদুর রউফ আশরাফ || শিশুরা আল্লাহ তা'য়ালার দেয়া অমূল্য আমানত। তাদের প্রতি ভালোবাসা, মমতা, সঠিক শিক্ষা ও সুন্দর আচরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও মানবতার আদর্শ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি যে স্নেহ, মমতা ও যত্ন প্রদর্শন করেছেন, তা আজও প্রতিটি পরিবার ও সমাজের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। শিশুদের প্রতি মমতা ছিল নবীজির বিশেষ একটি গুণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের দেখলে তাদের সালাম দিতেন, কাছে টেনে নিতেন, আদর করতেন এবং তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতেন। শিশুদের আনন্দিত রাখতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে শিশুদের প্রতি অধিক স্নেহশীল কাউকে দেখিনি। এ থেকেই বোঝা যায়, শিশুদের সঙ্গে কোমল ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করা নবীজির সুন্নাহ। শিশুদের প্রতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের কষ্টের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতেন। তিনি বলেছেন “আমি নামাজ দীর্ঘ করার ইচ্ছা করি; কিন্তু কোনো শিশুর কান্না শুনলে তার মায়ের কষ্টের কথা বিবেচনা করে নামাজ সংক্ষিপ্ত করি।”- সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম এটি শিশু ও মায়ের প্রতি নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অসাধারণ সহানুভূতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও আনন্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দ করতেন। হজরত মাহমুদ ইবনুর রাবি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দিতেন, শিশুদের সঙ্গে তাঁর এই স্নেহপূর্ণ আচরণের স্মৃতি তিনি পরবর্তী জীবনেও মনে রেখেছিলেন। অর্থাৎ ইসলাম শিশুদের স্বাভাবিক আনন্দ, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশকে অস্বীকার করে না; বরং ভালোবাসা ও সুন্দর পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়। শিশুদের প্রতি কোমল আচরণের শিক্ষা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “যে ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” সুনানে তিরমিজি এই হাদিসে শিশুদের প্রতি দয়া ও কোমল আচরণকে মুসলিম সমাজের অন্যতম নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কুরআনের আলোকে সন্তান প্রতিপালন আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি মানুষ ও পাথর।” সূরা আত-তাহরিম: ৬ সন্তানের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি তাকে ঈমান, ইবাদত, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেওয়াও অভিভাবকের দায়িত্ব। শুধু সন্তানের ভৌত চাহিদা পূরণ করাই যথেষ্ট নয়; তার আখিরাতের সফলতার জন্যও প্রস্তুত করতে হবে। আজকের অভিভাবকদের জন্য শিক্ষা বর্তমান সময়ে অনেক শিশু বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও সময়ের অভাবে মানসিকভাবে একাকিত্বে ভোগে। তাদের হাতে দামি খেলনা বা আধুনিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন সময়, স্নেহ, মনোযোগ ও সুন্দর আদর্শ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন আমাদের শেখায় শিশুকে ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে কাছে আনতে হবে। অপমান করে নয়, উৎসাহ দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। শুধু শাসন নয়, স্নেহ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। শুধু দুনিয়ার শিক্ষায় নয়, ঈমান ও আখিরাতের শিক্ষাতেও গড়ে তুলতে হবে। শিশুরা আজকের ছোট মানুষ, কিন্তু তারাই আগামী দিনের পরিবার, সমাজ ও উম্মাহর নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের প্রতি মমতা, সুন্দর আচরণ ও সঠিক শিক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ তারবিয়াতি আদর্শ। আসুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহ অনুসরণ করে আমাদের সন্তানদের ভালোবাসি, সময় দিই, সুন্দরভাবে শিক্ষা দিই এবং তাদের ঈমান, চরিত্র ও মানবিক গুণে গড়ে তুলি। লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক এসএইচ/ |