মুফতি তাকি উসমানী ও জালান্ধরীর সফরে বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজনের প্রস্তাব
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী ও মাওলানা হানিফ জালান্ধরীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে মাদরাসার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট সাইমুম সাদী। তাদের সফরে বড় বড় সম্মেলনের পাশাপাশি দেশের মাদরাসা পরিচালক, মুহতামিম ও শিক্ষকদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। 

পোস্টে সাইমুম সাদী জানান, চলতি মাসে পাকিস্তান থেকে আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী ও মাওলানা হানিফ জালান্ধরী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তাদের আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সম্মেলনের পোস্টার তাঁর নজরে এসেছে। তিনি উদ্যোগটিকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, দুই আলেমই পাকিস্তানের কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিস আল-আরাবিয়ার শীর্ষ দায়িত্বশীল। তাদের একজন সভাপতি, অন্যজন মহাসচিব।

মাওলানা হানিফ জালান্ধরীর সঙ্গে মক্কায় রাবেতায়ে আলমে ইসলামীর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, বিনয় ও নিরহংকার ব্যক্তিত্ব তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।

তবে এই দুই বরেণ্য আলেমের সফরকে শুধু বড় বড় সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সাইমুম সাদী। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন মাদরাসার পরিচালক, মুহতামিম ও শিক্ষকদের নিয়ে বিশেষ ওয়ার্কশপ বা প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলে তা আরও বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেফাকের দায়িত্বশীলদের নিয়েও পৃথক প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সেশনের আয়োজন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, মাদরাসা পরিচালনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা এবং মাদরাসাকেন্দ্রিক বিভিন্ন সমস্যা ও তার বাস্তবসম্মত সমাধান বিষয়ে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে।

সাইমুম সাদীর ভাষ্য, বড় সম্মেলন মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে, আর পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান আলেম ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের সফরকে শুধু বক্তৃতা ও আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।

সংশ্লিষ্ট আয়োজক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাঁর প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সাইমুম সাদী। 

এসএইচ/