বেফাকের নির্দেশনা মানতে আমরা কি প্রস্তুত
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:১০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মাসউদুল কাদির || 

সত্যিই কি আমরা বেফাকের নির্দেশনা মানতে পারবো? মানতে প্রস্তুত? কোমলমতি শিশুদের প্রহারের যেসব অথেনটিক ভিডিও আমরা দেখেছি, তাতে মাদরাসা শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা জাগাটা স্বাভাবিক। গরিব, অসহায়, এতিম কিংবা সাধারণ মানুষদের নৈতিক ভিত্তি তৈরি প্রকৃত পাঠশালা দেশের কওমি মাদরাসা। এটা কেউ বিশ্বাস না করলে তিনি ভুল চিন্তায় হাবুডুবু খাচ্ছেন।

বিলম্বে হলেও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। ধন্যবাদ জানাই সম্মানিত মুরব্বিদের। বেফাক চাইলে আরও ভালো ভালো উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দিয়ে এ দেশের মূলধারার ইসলাম শিক্ষার পথকে বেগবান করতেন পারে।

ধর্ষণ, বলাৎকার কিংবা শারীরিক নির্যাতনের যেসব কাহিনী আছে- এ নিয়েও অরও বড় পদক্ষেপে যাওয়া উচিত। কেউ জড়িত হলে তার যা শাস্তি আর অপবাদ দিলেও তেমনিই শাস্তি হওয়া উচিত। অপবাদকারীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। অনেক সময় শিশুও বড়দের কথায় বিভ্রান্ত হয়। সবার আগে সম্মানিত অভিভাবককেও সচেতন হতে হবে। না হলে এ দেশের নৈতিক ভিত্তি এই কওমি মাদরাসার টুটি চেপে ধরলে ভালো কিছু আর অবশিষ্ট থাকবে না।

অপরাধী যেনো কোনোভাবেই পেছনের পথ দিয়ে পালাতে না পারে। আবার অপবাদ দিয়ে কাউকে যেনো হেয় করা না হয়। সেটিকেও দেখতে হবে।

সাধারণ আলেম -উলামা ও অভিভাবকগণ মনে করেন, বেফাক বসে থাকবে না। সবসময় কার্যকর বার্তা প্রদান করবে। বেফাক সরকারি কোনো বোর্ড নয়। অনেকখানি আলাদা। এটি একটি সংগঠনও। সাভারে হামলার শিকার মাদরাসাটি বেফাক পরিদর্শন করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেফাক এগিয়ে যাক। কথা বলুক। বার্তা দিক।

হঠাৎ কোথাও কোনো মাদরাসা যদি আক্রান্ত হয়, প্রথমত বেফাককে ক্লিয়ার করা উচিত-এটি বেফাকভুক্ত কি না? অধীন না হলে জানিয়ে দেওয়া উচিত। অধীন হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। হামলার শিকার হলে পার্শ্ববর্তী মাদরাসা ও শীর্ষ আলেমদের কাছে সাহার্য্যের বার্তা প্রদান করা উচিত। বেফাক সংগঠনকেও আরও শক্তিশালী করা উচিত। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেসব মাদরাসার পাশে দাঁড়ানোটা সবারই কর্তব্য।

নতুন নতুন আরও ভালো উদ্যোগীয় সাফল্য আসুক। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও মাদরাসা পরিচালক 

এসএইচ/