
|
আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় নবীজি (সা.) যে দোয়া পড়তেন
প্রকাশ:
০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক বৃষ্টি, বাতাস ও ঋতু পরিবর্তন আল্লাহর ক্ষমতা ও রহমতের নিদর্শন। এগুলো যেমন স্বস্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে, তেমনি কখনো কখনো কষ্টের কারণও হয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা আমাদের শিখিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি কল্যাণ কামনা করতে এবং ক্ষতি থেকে সুরক্ষা চাইতে দোয়া শিখিয়েছেন। অতিরিক্ত বাতাস ও বৈরী আবহাওয়া অনেক সময় আমাদের ক্ষতি করে। এ কারণে অনেকেই বাতাসকে গালমন্দ করে। মহানবী (সা.) বাতাসকে গালমন্দ করতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, বাতাস আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। কখনো তা রহমত নিয়ে আসে, আবার কখনো শাস্তির কারণ হয়। তাই বাতাসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে এবং এর কল্যাণ কামনা করতে হবে। (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ) উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) যখন আকাশে মেঘ জমতে দেখতেন, তখন তার চেহারার রং বদলে যেত। তিনি ঘরের ভেতরে যেতেন, আবার বাইরে আসতেন। বৃষ্টি শুরু হলে তিনি স্বস্তি অনুভব করতেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি আদ জাতির কথা উল্লেখ করেন। তারা আকাশে মেঘ দেখে বৃষ্টির আশা করেছিল। আল্লাহ তায়ালা তাদের সেই কথার উল্লেখ করে বলেন, যখন তারা মেঘকে তাদের উপত্যকার দিকে আসতে দেখল, তখন বলল, এটি তো আমাদের বৃষ্টি দেবে। (সুরা আহকাফ, আয়াত: ২৪) কিন্তু তারা যে মেঘকে রহমত মনে করেছিল, তা ছিল ধ্বংসাত্মক ঝড়ের পূর্বাভাস। (সহিহ মুসলিম) বাতাস, বৃষ্টি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় পড়ার জন্য মহানবী (সা.) আমাদের কয়েকটি দোয়া শিখিয়েছেন। ১. বাতাসের কল্যাণ কামনার দোয়া প্রবল বাতাস প্রবাহিত হলে মহানবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি। অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে থাকা কল্যাণ এবং যে কল্যাণের জন্য একে পাঠানো হয়েছে, তা কামনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে থাকা অনিষ্ট এবং যে অনিষ্টের জন্য একে পাঠানো হয়েছে, তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।(সহিহ মুসলিম) ২. আকাশে মেঘ জমলে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার দোয়া উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) আরও বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) আকাশে মেঘ জমতে দেখলে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। তিনি বলতেন, اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا أُرْسِلَ بِهِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাঊজু বিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি। অর্থ: হে আল্লাহ, যে জিনিস দিয়ে মেঘ পাঠানো হয়েছে, তার অনিষ্ট থেকে আমরা আপনার আশ্রয় চাই। (সুনানে ইবনে মাজাহ) মেঘ থেকে যেমন বৃষ্টি হতে পারে, তেমনি তা আসন্ন ঝড়েরও সংকেত হতে পারে। এই দোয়া আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, অনুকূল আবহাওয়ার আশা করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে বিনয়ী হয়ে আশ্রয় চাওয়া উচিত। ৩. আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চাওয়ার দোয়া খরার সময় এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে বলেন। তখন নবীজি (সা.) জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি দুই হাত তুলে বললেন, اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা। অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। (সহিহ বুখারি) ৪. উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া বৃষ্টি শুরু হলে মহানবী (সা.) বলতেন, اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআন। অর্থ: হে আল্লাহ, এই বৃষ্টিকে উপকারী করুন। (সহিহ বুখারি) বৃষ্টি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে শুষ্ক আবহাওয়ায় বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে আসে। এই দোয়ার মাধ্যমে আমরা এমন বৃষ্টির আশা করি, যা প্রকৃতিকে সজীব করে এবং মানুষের উপকারে আসে। ৫. অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পড়ার দোয়া অতিরিক্ত বৃষ্টি কখনো কখনো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়। প্রবল বৃষ্টিতে কষ্টকর পরিস্থিতি তৈরি হলে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা। অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। (সহিহ বুখারি) আইও/ |