শিক্ষার্থীদের মারধর ও মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ করল বেফাক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে দেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের শাসনের সীমা নির্ধারণ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও তত্ত্বাবধান—এই চার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের শাসনের উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও কল্যাণ। রাগের মাথায় কোনো বিচার বা শাস্তি দেওয়া যাবে না। পড়াশোনায় অমনোযোগী কিংবা উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের মারধর না করে তাদের অভিভাবকদের অবহিত করতে হবে।

মাদরাসায় লাঠি, বেত কিংবা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, কটু ভাষা প্রয়োগ কিংবা হেয় প্রতিপন্ন করার মতো মানসিক শাস্তি থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অমান্যকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইলহাক (বোর্ডের অন্তর্ভুক্তি) পর্যন্ত বাতিল হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

শিক্ষকদের নৈতিক ও আত্মিক উন্নয়নে নিয়মিত সাপ্তাহিক বা মাসিক ইসলাহী মজলিস আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য শুরুতেই বাধ্যতামূলক তারবিয়াতি নেজাম চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যেকোনো ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসার দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি বেফাকের হটলাইনে জানানোর নির্দেশনা রয়েছে। অভিভাবক ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ বাড়াতে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে।

শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদরাসায় বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির সমন্বয়ে তদারকি ব্যবস্থা রাখতে হবে।

কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে অনধিক সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় থাকলে প্রতিষ্ঠানের ইলহাক স্থগিত কিংবা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও বিশ্বস্ততা যথাযথভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। অতীতে নৈতিক স্খলন বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সহযোগিতা ও অভিযোগ জানানোর জন্য বেফাকের হটলাইন নম্বর ০১৭২৪-৬৩০৬৩২ উল্লেখ করা হয়েছে।

আইও/