সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি হিফজে সাফল্য, ৭০ হাফেজকে সংবর্ধনা
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মাহমুদুল হাসান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা মাদ্রাসা আবু হুরায়রা (রহ.)-এর ৭০ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফল করা শিক্ষার্থীদেরও সম্মাননা জানানো হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ডেমরার মধুবাগ, পাড়াডগার এলাকায় মাদ্রাসাসংলগ্ন বালুর মাঠে ‘৭০ জন হাফেজে কোরআনের সেলিব্রেশন ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজন করা হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল শিক্ষা প্রদর্শনী। রাতে মূল অনুষ্ঠানে ৭০ জন হাফেজকে পাগড়ি পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাগড়ি পরিয়ে দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহ বাকী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ নবী উল্লাহ নবী। বিশেষ মেহমান ছিলেন শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন রনি। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসা আবু হুরায়রা (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মুসা খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে।

প্রধান মেহমান আলহাজ নবী উল্লাহ নবী বলেন, কোরআনের হাফেজ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়া সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজ ও দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ মেহমান ফেরদৌস হোসেন রনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা প্রয়োজন। দুই ধারার শিক্ষার সমন্বয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ মুসা খান বলেন, শিক্ষার্থীদের কোরআনের হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। ৭০ জন শিক্ষার্থীর এই অর্জন প্রতিষ্ঠানটির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে হিফজ শিক্ষার সমন্বয়ে সফলভাবে এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালে কওমি শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ইংরেজি বক্তব্য, শিক্ষামূলক ও বিষয়ভিত্তিক নাটিকা, গজলসহ বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ‘সিরাত মিউজিয়াম’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও সিরাতের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

আইও/