
|
ইলমের পথে জ্ঞানার্জনের সিদ্ধান্ত
প্রকাশ:
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
পরদিন সকালবেলা। নু‘মান যথারীতি দোকানে এল। কিন্তু আজ তাঁর ভেতরটা যেন অন্যরকম। ক্রেতা আসছে, কাপড় দেখছে, দাম জিজ্ঞেস করছে—সবকিছু আগের মতোই চলছে। আর নু‘মানের মন, সেটা বারবার চলে যাচ্ছে অন্য কোথাও। শা‘বি (রহ.)-এর কথাগুলো তার কানে বাজছে—“ইলমের দরজাটা বন্ধ করে রেখো না।” একজন ক্রেতা কাপড় হাতে নিয়ে বললেন, এই কাপড়ের দাম কত? নু‘মান দাম বলল। ক্রেতা চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আরেকজন এল। এভাবে সময় অতিবাহিত হচ্ছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নু‘মান নিজের জীবন নিয়েও ভাবছিল। ব্যবসা তাঁর ভালো লাগে। এতে মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, জীবিকা হয়, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা যায়। কিন্তু সে বুঝতে পারছিল—জীবন শুধু উপার্জনের নাম নয়। মানুষ কেন সৃষ্টি হয়েছে? আল্লাহর ইবাদত কীভাবে করতে হবে? লেনদেনে কোনটি বৈধ, কোনটি অবৈধ? মানুষের অধিকার কী? পারিবারিক জীবনের বিধান কী? এসব জানার জন্য তো ইলম প্রয়োজন। সন্ধ্যা নেমে এল। দোকান বন্ধ করার সময় নু'মান সিদ্ধান্ত নিল—নিয়মিত সে ইলমের মজলিসে বসবে। তবে ব্যবসা ছেড়ে নয়। কারণ, নিজের উপার্জনও প্রয়োজন। তাছাড়া সে বুঝেছিল, দুনিয়ার দায়িত্ব পালন করেও ইলম অর্জন করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন শুধু সময়ের সঠিক ব্যবহার ও দৃঢ় সংকল্প। রাত পেরিয়ে সকাল এল। শুরু হল তাঁর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন। দিনের একটি অংশে সে ব্যবসা করত। আরেকটি অংশ আলেমদের মজলিসের জন্য নির্ধারণ করল। কখনো সে মজলিসে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা শুনত। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে পরে আলেমকে প্রশ্ন করত। একদিন এক বন্ধু তাঁকে বলল, নু‘মান, তুমি আজকাল অনেক বেশি আলেমদের সঙ্গে বসছ, এর কারণ কী! নু‘মান হেসে বলল, হ্যাঁ বসছি তো। তাদের কাছে বসে মনে হচ্ছে, আমি এতদিন জানতামই না যে জানার মতো এত কিছু আছে। বন্ধুটি হেসে বলল, তুমি তো ব্যবসায়ী। এত পড়াশোনা করে কী হবে? নু‘মান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ব্যবসায় ভুল করলে হয়তো কিছু টাকা হারাব। কিন্তু দ্বীনের বিষয়ে ভুল করলে ক্ষতিটা অনেক বড় হতে পারে। বন্ধুটি আর কিছু বলল না। নু‘মান আবার বলল, আমি কাউকে ছাড়িয়ে যেতে চাই না। শুধু চাই, যা করব তা যেন জেনে করি। এই কথাটিই একসময় তাঁর জীবনের নীতিতে পরিণত হলো। সে বুঝতে পেরেছিল, ইলম এমন কোনো জিনিস নয় যা একদিনে অর্জন করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য। প্রয়োজন শিক্ষক। প্রয়োজন দীর্ঘ সময়। আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—শেখার আগ্রহ। কিছুদিন পর নু'মান এমন এক মজলিসের সন্ধান পেল, যেখানে কুফার অন্যতম শ্রদ্ধেয় আলেম হাম্মাদ (রহ.) নিয়মিত শিক্ষা দিতেন। প্রথম দিন দূরে বসে বসে নু'মান মজলিসের আলোচনা শুনল। হাম্মাদ (রহ.) একটি মাসআলা আলোচনা করছিলেন। কথার মধ্যে তিনি শুধু “এটাই হুকুম” বলছিলেন না। বরং কেন এমন হুকুম, তার পেছনে কী দলিল, অন্য মত কী—এসবও ব্যাখ্যা করছিলেন। নু‘মান তাঁর আলোচনা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেল। মজলিস শেষে বাইরে বের হল। তার মনে হলো—“আমি যে জ্ঞান খুঁজছিলাম, হয়তো এই পথেই তার সন্ধান পাব।” এসএইচ/ |