মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে: প্রতিমন্ত্রী নুর
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৫৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।


তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিক্যাল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিক্যাল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।


প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিক্যাল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।

অনুমোদনহীন মেডিক্যাল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিক্যাল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। খরচ নির্ধারণ করবে সরকার

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর খরচ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোনো খরচের তথ্য দিয়ে থাকলে সেটিকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। মালয়েশিয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে খরচ জানাবে।

তিনি বলেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে আনুমানিক এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রাথমিক আলোচনায় উঠে এসেছে। বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। সরকার নির্ধারিত খরচ কঠোরভাবে কার্যকর রাখার চেষ্টা করবে।

কর্মীদের বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একেবারে বিনা খরচে বিদেশে যাওয়া সম্ভব নয়। বিমানভাড়া, মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং বোয়েসেলের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সেবা ফি দিতে হবে। তবে লক্ষ্য হচ্ছে, কর্মীরা যাতে ন্যূনতম খরচে যেতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে সরকারি উদ্যোগে বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্ধারিত খরচের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এর আগে ব্যক্তিগতভাবে প্রচারিত খরচের তথ্যের ভিত্তিতে কর্মীদের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এসএইচ/