মুখোমুখি লেখকপত্র সম্পাদক: তিরিশ প্রশ্ন, তিরিশ উত্তর
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

লেখকদের নিয়ে ছোট্ট একটি ট্যাবলয়েড প্রকাশের ভাবনা থেকে প্রায় আট বছর আগে শুরু হয় লেখকপত্রের যাত্রা। আজ এটি লেখালেখি, লেখক ও সাহিত্যচর্চাকেন্দ্রিক একটি বিশেষায়িত সাময়িকী। এই পথচলায় জমা হয়েছে নানা অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি, সীমাবদ্ধতা আর পাঠক-লেখকের ভালোবাসা। সম্পাদকের চোখে একটি পত্রিকা কেবল লেখা প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং নতুন লেখক আবিষ্কার, সম্ভাবনাকে শাণিত করা এবং সুস্থ সাহিত্যচর্চার পরিবেশ তৈরিরও একটি প্রয়াস।

লেখক ও সম্পাদক হিসেবে জহির উদ্দিন বাবরের অভিজ্ঞতা, সম্পাদনার দর্শন, তরুণ লেখকদের নিয়ে প্রত্যাশা, ছাপা সাহিত্যপত্রিকার প্রাসঙ্গিকতা এবং লেখকপত্রের আগামীর স্বপ্ন-এসব নিয়েই ৩০তম সংখ্যার বিশেষ আয়োজন সম্পাদকের বিশেষ সাক্ষাৎকার। এখানে তিরিশটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: মাসউদুল কাদির

১. লেখকপত্র-এই নামটি যখন প্রথম মাথায় এসেছিল, তখন আপনি কেমন একটি পত্রিকা কল্পনা করেছিলেন?

মূলত প্রথমে ম্যাগাজিন আকারে পত্রিকা করার কথা মাথায় ছিল না। তখন ভেবেছিলাম নিউজপ্রিন্টে ট্যাবলয়েড আকারে চার পৃষ্ঠার একটা ছোট পত্রিকা করবো, যেখানে লেখকদের নিউজ প্রাধান্য পাবে। পরবর্তী সময়ে সহযোদ্ধাদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়।

২. লেখকপত্রের ৩০তম সংখ্যা পর্যন্ত এসে পেছনে ফিরে তাকালে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী মনে হয়?

প্রাপ্তির কোনো শেষ নেই! জীবনে মানুষের যে দোয়া ও ভালোবাসা পেয়েছি, এর একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে লেখকপত্র। এখানে নেওয়া সাক্ষাৎকার থেকেই ব্যাপক আলোচিত ‘দশ লেখক দশ জীবন’ বইটি হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি বই হওয়ার অপেক্ষায়।

৩. একজন সম্পাদক আর একজন লেখকের মধ্যে মূল পার্থক্যটা কোথায়?

লেখক মূলত নিজের কথা বলেন, আর সম্পাদক অন্যের কথাকেও ঠিকভাবে বলার সুযোগ করে দেন। লেখক একটি ভালো লেখা তৈরি করেন; সম্পাদক অনেক লেখার ভেতর থেকে কোনটি বলা দরকার, কীভাবে বলা দরকার এবং কোথায় কী বাদ দেওয়া দরকার-সেই সিদ্ধান্ত নেন।

৪. লেখকদের নিয়ে পত্রিকা করার আইডিয়া কোথায় পেলেন? এ ধরনের পত্রিকা কি বাংলা ভাষায় আরও আছে?

লেখকদের নিয়ে পত্রিকা করার আইডিয়াটা মূলত ‘মিডিয়া ওয়াচ’ থেকে নেওয়া। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নিয়ে স্বতন্ত্র পত্রিকা হতে পারলে লেখকদের নিয়েও পত্রিকা হতে পারে- সেটা মনে হয়েছিল। বাংলা ভাষায় লেখকদের নিয়ে এ ধরনের ধারাবাহিক কোনো প্রকাশনা আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে আমাদের জানার বাইরে থাকলে থাকতেও পারে।

৫. লেখক হওয়ার আগে সম্পাদক হওয়া নাকি সম্পাদক হওয়ার আগে লেখক হওয়া-আপনার ক্ষেত্রে কোনটি বেশি সত্য?

আমার ক্ষেত্রে দুটোকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। লেখক হওয়ার আগেই সম্পাদনা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে লেখা পড়তে হয়, আর সম্পাদনার পাশাপাশি লেখালেখি আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজের কথাটাও দায়িত্ব নিয়ে বলতে হয়। তাই বলা যায়, লেখক আমাকে কলম ধরিয়েছে, আর সম্পাদক শিখিয়েছে কোথায় সেই কলম থামাতে হয়।

৬. ভালো লেখা আর ভালোভাবে লেখা-দুটোর মধ্যে আপনি কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেন?

এখানে একটি আরেকটির বিকল্প নয়। ভাবনা দুর্বল হলে সুন্দর ভাষা লেখাকে বাঁচাতে পারে না; আবার ভালো ভাবনাকে অগোছালো ভাষা পাঠকের কাছে পৌঁছাতে দেয় না। তাই আমি বলব, ভালো লেখা হলো প্রাণ, আর ভালোভাবে লেখা হলো তার শরীর। প্রাণ ছাড়া শরীর নিষ্প্রাণ, আর শরীর ছাড়া প্রাণও পাঠকের কাছে পৌঁছায় না।

৭. কখনো কি এমন কোনো লেখা এসেছে, যেটা প্রথমে ভালো লাগেনি, কিন্তু সম্পাদনা করতে গিয়ে লেখাটির ভেতরের সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছেন?

হ্যাঁ, এমন তো অনেকবার হয়েছে। অনেক লেখা মনে হয়েছে তেমন ভালো হবে না, কিন্তু ভেতরে ঢুকে দেখেছি অনেক ভালো। আবার এর বিপরীতটাও হয়েছে। অনেকের লেখার ভেতরে ঢুকে রীতিমতো হতাশ হতে হয়।

৮. সম্পাদনার সময় একজন লেখকের কতটা স্বাধীনতা থাকা উচিত? সম্পাদক কোথায় থামবেন?

সম্পাদক লেখার মালিক নন, সহযাত্রী। তাই লেখকের কণ্ঠ, ভাবনা ও বক্তব্য অক্ষুণ্ণ রেখে যতটুকু পরিমার্জন করলে লেখা আরও স্পষ্ট, সুন্দর ও পাঠযোগ্য হয়-সম্পাদকের অধিকার ততটুকুই। সম্পাদককে থামতে হবে ঠিক সেখানেই, যেখানে সম্পাদনা করতে গিয়ে লেখকের নিজস্ব স্বর বদলে যেতে শুরু করে।

৯. কোন ধরনের ভুল একজন লেখক বারবার করলে সম্পাদক হিসেবে আপনার সবচেয়ে বেশি বিরক্তি হয়?

সবচেয়ে বেশি বিরক্তি লাগে যখন একজন লেখক নিজের লেখা আরেকবার পড়েন না। কারণ পুনঃপাঠের অভ্যাস না থাকলে একই ধরনের ভুল বারবার ফিরে আসে। তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো, তথ্য যাচাই না করে লেখা, অপ্রয়োজনীয় কথা টেনে নেওয়া এবং নিজের বক্তব্যকে অকারণে ভারী করে তোলা।

১০. লেখকপত্রের জন্য লেখা বাছাই করতে গিয়ে কখনো কি প্রিয় কোনো লেখকের লেখা ফিরিয়ে দিতে হয়েছে? তখন সম্পর্কটা কীভাবে সামলেছেন?

লেখকপত্রে বাইরের লেখকদের লেখা খুব কমই আনা হয়। আমরা যেহেতু পরিকল্পিত লেখা ছাপি, এজন্য লেখা বাছাইয়ের আগে আমরা লেখক বাছাই করি। আর আমাদের নির্ধারিত লেখক গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের লেখা প্রয়োজনে ভাঙচুর করে আমরা লেখকপত্রের মতো করে নিই। সুতরাং এক্ষেত্রে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়ে না।

১১. আপনার চোখে একজন ভালো লেখকের সবচেয়ে জরুরি গুণ কোনটি-প্রতিভা, পাঠ, চিন্তা, ভাষা, নাকি নিয়মিত লেখার অভ্যাস?

আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি হলো- দেখার চোখ ও ভাবার ক্ষমতা। যে মানুষ গভীরভাবে পড়ে, মন দিয়ে দেখে এবং নিজের দেখা-ভাবাকে ভাষায় ধরার চেষ্টা করে, তার লেখাও ধীরে ধীরে নিজের স্বর খুঁজে পায়। প্রতিভা হয়তো জন্মগত, কিন্তু লেখক হয়ে ওঠা এক দীর্ঘ সাধনা। আর সেই সাধনার নামই নিয়মিত পড়া, ভাবা ও লেখা।

১২. অনেকেই লেখক হতে চান, কিন্তু পড়তে চান না। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

পাঠ শুধু ভাষা শেখায় না, নিজের সীমাবদ্ধতাটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তাই আমার মনে হয়, লেখক হওয়ার আগে ভালো পাঠক হওয়া জরুরি-কারণ কলম ধরার আগে বই ধরতে হয়।

১৩. আপনার নিজের লেখা সম্পাদনা করতে গেলে কি আপনি অন্য লেখকদের চেয়ে বেশি কঠোর হন?

কঠোর তো অবশ্যই হই। তবে নিজের লেখা কাটা অনেক কষ্টকর এবং নির্মম কাজ। সেই কাজটি আমি সহকর্মীদের ওপর ছেড়ে দিই। 

১৪. কখনো কি নিজের লেখা পড়ে মনে হয়েছে-‘এটা আরেকটু ভালোভাবে লেখা যেত’?

অনেক বারই মনে হয়। মাঝে মাঝে কারও ভালো লেখা পড়লে নিজের লেখাকে ছাইপাশ মনে হয়। তবে অসংখ্য লেখা পড়ে আবার উল্টোও মনে হয়। এজন্য লেখালেখিটা অব্যাহত রাখার প্রেরণা পাই।

১৫. একটি পত্রিকা চালানোর সবচেয়ে কঠিন কাজ কোনটি-লেখা সংগ্রহ, সম্পাদনা, অর্থের ব্যবস্থা, সময় মেলানো, নাকি পাঠক ধরে রাখা?

সবচেয়ে কঠিন হলো পাঠক ধরে রাখা। কারণ সবকিছু করেও যদি পাঠক মনে করেন, ‘এই পত্রিকাটি না পড়লেও চলে’, তাহলে পুরো পরিশ্রমটাই অর্থহীন হয়ে যায়।

১৬. পত্রিকা প্রকাশের আগের রাতগুলো আপনার কাছে সাহিত্যচর্চা, যুদ্ধ, নাকি দুটোর মিশ্রণ?

আমরা এটা তিন মাস পরপর করি। অনেকটা রিলাক্সের সঙ্গে কাজ করি। এর জন্য বাড়তি কোনো লোড নিই না। সুতরাং এটা যুদ্ধ মনে হওয়ার কারণ নেই। আমরা পত্রিকার প্রতিটি কাজই এনজয় করি। এমনকি ছাপাখানা থেকে পত্রিকার গাট্টি বহনও আমাদের আনন্দ দেয়।

১৭. কখনো কি এমন হয়েছে, পত্রিকার সংখ্যা ছাপা হয়ে যাওয়ার পর একটি ভুল চোখে পড়ে মনে হয়েছে- ‘ইশ, এটা যদি আগে দেখতাম!’?

এটা তো প্রায় প্রতি সংখ্যাতেই হয়। তবে আল্লাহর রহমতে আমাদের পত্রিকায় বড় ধরনের কোনো ভুল থাকে না বলে আমরা দাবি করতে পারি। অনেক বোদ্ধা পাঠকও সেই স্বীকৃতি আমাদের দেন।

১৮. একজন সম্পাদক হিসেবে সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন কখন?

বেশ কয়েকবারই এমন হয়েছে, সিনিয়র কোনো লেখক জেনারেল কোনো লেখা দিয়েছেন আমাদের পত্রিকায় ছাপাতে। কিন্তু যেহেতু আমাদের পত্রিকাটি বিশেষায়িত সেজন্য সেই লেখা আমরা ছাপাতে পারিনি।

১৯. লেখকপত্রের কোনো সংখ্যা প্রকাশের পর পাঠকের এমন কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, যা আজও মনে আছে?

প্রবীণ দুজন লেখকের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে। তাঁরা দুজনই আজ মরহুম। আল্লাহ তাদের জান্নাতবাসী করুন। তাঁরা হলেন মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী এবং মাওলানা ইসহাক ওবায়দী। বেশ কয়েকটি সংখ্যার জন্য তাঁরা ফোনে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

২০. আজকের তরুণ লেখকদের মধ্যে কোন প্রবণতাটি আপনাকে আশাবাদী করে, আর কোন প্রবণতাটি একটু চিন্তায় ফেলে?

আশাবাদী করে তাদের জানার আগ্রহ ও নতুন কিছু করার সাহস। আর চিন্তায় ফেলে দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার তাড়াহুড়া-অনেকে লেখক হতে চান, কিন্তু লেখক হয়ে ওঠার দীর্ঘ প্রস্তুতিটা নিতে চান না।

২১. ফেসবুকের স্ট্যাটাস, ব্লগ, অনলাইন পোর্টাল ও বই-সবকিছুর ভিড়ে একটি সাহিত্যপত্রিকার প্রয়োজন এখনো কেন?

কারণ সব লেখা প্রকাশিত হওয়া আর সাহিত্য হয়ে ওঠা এক কথা নয়। ফেসবুক দ্রুত কথা ছড়িয়ে দেয়, পোর্টাল তথ্য পৌঁছে দেয়; কিন্তু একটি সাহিত্যপত্রিকা সময় নিয়ে লেখা বাছাই, পরিমার্জন ও সংরক্ষণ করে। তাৎক্ষণিক পাঠের ভিড়ে সাহিত্যপত্রিকা পাঠককে একটু থামতে শেখায়-শুধু কী পড়ব নয়, কেন পড়ব এবং কী মনে রাখব, সেই প্রশ্নও তোলে।

২২. পাঠক কমে যাচ্ছে, এই কথাটা আপনি কতটা বিশ্বাস করেন?

পাঠক কমছে-কথাটা পুরোপুরি বিশ্বাস করি না; বরং পাঠকের মনোযোগের ধরন বদলেছে। মানুষ এখনো পড়ে, তবে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, ধৈর্য কমেছে। সংকট পাঠকের নয়, অনেক ক্ষেত্রে পাঠযোগ্য লেখা ও পাঠক ধরে রাখার মতো উপস্থাপনার।

২৩. লিটল ম্যাগাজিনের সংস্কৃতির কাছে বাংলা সাহিত্যের ঋণ কতটা?

বাংলা সাহিত্যের বহু বাঁকবদলের পেছনে লিটল ম্যাগাজিনের নীরব অথচ গভীর ভূমিকা আছে। মূলধারা যেখানে প্রতিষ্ঠিত রুচির নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে, লিটল ম্যাগাজিন সেখানে নতুন চিন্তা, ভিন্ন স্বর ও নিরীক্ষার ঝুঁকি নেয়। সুতরাং লিটল ম্যাগাজিনের ঋণ কোনোভাবেই অস্বীকার করার মতো নয়।

২৪. লেখক থেকে সম্পাদক হওয়ার পথে কী পেলেন, আর কী হারালেন?

লেখক হিসেবে নিজের কণ্ঠস্বর তৈরি করেছি, সম্পাদক হিসেবে শিখেছি অন্যের কণ্ঠস্বরকে জায়গা দিতে। এর মাধ্যমে বহু লেখকের স্বপ্নের সঙ্গী হওয়ার আনন্দ পেলেও নিজের লেখার জন্য নিরুপদ্রব সময় আর পাই না।

২৫. ৩০টি সংখ্যা মানে অন্তত সাড়ে সাত বছরের পথ। কোন সংখ্যাটা আপনার কাছে মাইলফলক?

মূলত লেখকপত্রের প্রতিটি সংখ্যাই আমাদের কাছে মাইলফলক। আমরা প্রতিটি সংখ্যাই সেই মমতা দিয়ে প্রকাশের চেষ্টা করি। তবে ২০২০ সালে দেশে যখন করোনা মহামারির প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করে তখন একটি সংখ্যা প্রকাশ করতে পারিনি। পরে দুটি সংখ্যা একসঙ্গে প্রকাশ করতে হয়। সেই সংখ্যাটিকে মাইলফলক বলা যায়। 

২৬. ছাপা পত্রিকা আর অনলাইন মাধ্যমের এই যুগে লেখকপত্রের জায়গাটা কোথায়?

অনলাইন মাধ্যম যেখানে দ্রুততার সঙ্গে খবর ও মতামত পৌঁছে দেয়, ছাপা পত্রিকা সেখানে চিন্তা ও মননের স্থায়ী পরিসর তৈরি করে। লেখকপত্রের জায়গা কেবল ছাপার পাতায় নয়, লেখক তৈরির কারিগর হিসেবে। আমরা শুধু লেখা প্রকাশ করতে চাই না, লেখক তৈরি করতে চাই; শুধু পাঠক পেতে চাই না, পাঠরুচিও গড়ে তুলতে চাই। মাধ্যম বদলাবে, কিন্তু মননশীল লেখালেখি ও সুস্থ সাহিত্যচর্চার প্রয়োজন ফুরাবে না। এই জায়গাতেই লেখকপত্রের প্রাসঙ্গিকতা।

২৭. প্রচ্ছদ, নাম, কাগজ বা প্রেসের ঝামেলা নিয়ে কোনো হাসির বা কান্নার গল্প আছে?

আমাদের শিল্প সম্পাদক বন্ধুবর ইলয়াস হোসাইন। তিনি কাজটি বেশ মমতার সঙ্গে করেন। প্রতিটি সংখ্যার প্রচ্ছদেরই তিনি নিজের মতো করে একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করান। আবার মেকাপে কোনো ভুল করে বসলেও তার কাছে একটা ব্যাখ্যা হাজির থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বেশ মজা করি।

২৮. নতুন লেখকের লেখায় হাত দেওয়া আর প্রতিষ্ঠিত লেখকের লেখায় হাত দেওয়া-দুইয়ের ফারাক কোথায়?

নতুন লেখকের লেখায় হাত দিতে হয় সম্ভাবনা ও পথ দেখানোর জন্য, আর প্রতিষ্ঠিত লেখকের লেখায় হাত দিতে হয় যুক্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। নতুনের ক্ষেত্রে যত্ন জরুরি, প্রতিষ্ঠিতের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা।

২৯. এমন কোনো মুহূর্ত এসেছিল কি, যখন মনে হয়েছে- ‘আর পারছি না, বন্ধ করে দিই’। কী সেটাকে থামিয়েছিল?

শুরুর দিকে এমনটা মাঝে মাঝেই মনে হয়েছে। কিন্তু পাঠকের ব্যাপক সাড়া এবং ভালোবাসার কাছে সব ম্লান হয়ে গেছে। যেহেতু এটা আমাদের শখের কাজ, এজন্য বৈষয়িক লাভ-ক্ষতির হিসাব আমরা করি না। ফলে সময়, অর্থ ও শ্রমের গচ্চা গেলেও এখন আর সেটা মনে হয় না। 

৩০. লেখকপত্রের একশতম সংখ্যা হলে সেখানে কী দেখতে চান?

লেখকপত্রের একশতম সংখ্যায় শুধু সংখ্যার সাফল্য নয়, দেখতে চাই চিন্তার পরিণতি, লেখকের সমৃদ্ধি আর পাঠকের রুচির পরিবর্তন। চাই, তখন লেখকপত্র কেবল লেখকদের পত্রিকা থাকবে না; হয়ে উঠবে নতুন লেখক তৈরির প্রতিষ্ঠান, সুস্থ সাহিত্যচর্চার মানদণ্ড এবং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল।

সৌজন্যে: লেখকপত্র

আইও/