
|
উচ্ছেদ করা হচ্ছে মোদির বাসভবনের পাশের শতবর্ষী মসজিদ
প্রকাশ:
২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মসজিদটিকে ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ দাবি করে ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে দেশটির ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর (এলঅ্যান্ডডিও)। এর আগে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতায়াতের পথও। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জারি করা নোটিশে ছয় দিনের মধ্যে মসজিদটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার। দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ আদায় করে আসছেন মুসল্লিরা। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনাটি রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। অন্যদিকে, মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, সংকট নিরসনে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভারতের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের দাবি, রেসকোর্স মসজিদটি সরকারি জমিতে অবস্থিত। এ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই মসজিদটি খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এনে এর সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লি পৌর কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় মসজিদটির নাম রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেট এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তালিকাতেও মসজিদটির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। মসজিদটি ঘিরে সংকটের মধ্যে গত ৭ অক্টোবর এর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায় এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মসজিদটির ইমাম মোহাম্মদ হারুনের অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বোর্ড। বিষয়টি আদালতে নেওয়ার জন্যও ওয়াক্ফ বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান ইমাম হারুন। নিজেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বোর্ড নিজে আদালতে যায়নি এবং তাঁকেও অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে ঐতিহাসিক মসজিদটি রক্ষার বিষয়ে অসহায় বোধ করছেন বলে জানান ইমাম। রেসকোর্স মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এ উদ্দেশ্যে সংগঠনটির পক্ষে মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমি মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। এতে মসজিদ ও কবরস্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সেগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদটির ঐতিহাসিক স্বীকৃতির দাবি, বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং উচ্ছেদের নোটিশ—সব মিলিয়ে স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন মসজিদটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। সূত্র: দ্য ওয়্যার, দ্য ট্রিবিউন ও দ্য হিন্দুস্তান গেজেট আইও/ |