রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে হেফাজতের প্রতিবাদ, প্রত্যাহারের আহ্বান
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৪১ সকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে বিশেষ দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা থাকা জরুরি। ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের পরিপন্থী বলে মনে করেন তাঁরা।

হেফাজত নেতারা বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অসতর্ক বা বিতর্কিত মন্তব্য জনপরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। ইসলামও অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। তবে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে নিজ ধর্মের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেওয়া বা তাতে সমর্থন জানানো সমীচীন নয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই প্রকৃত ধর্মীয় সম্প্রীতির ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতির শেষাংশে রাষ্ট্রপতিকে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করে এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা। অন্যথায় ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসলমানেরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে বাধ্য হবেন বলেও সতর্ক করেন তাঁরা।

এসএইচ/