হিন্দু-মুসলিম ঐক্য জোরদারে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে: আসজাদ মাদানি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে সাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্বেষের পরিবেশ দূর করে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক জোরদার করতে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সহসভাপতি ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্য আন্দোলনের আহ্বায়ক মাওলানা আসজাদ মাদানি। তিনি বলেছেন, মানুষের মধ্যে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালানো এবং ভারতের গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

গত ১০ অক্টোবর ভারতের বেঙ্গালুরুর মোদি মসজিদে জমিয়তে উলামায়ে কর্ণাটকের উদ্যোগে আয়োজিত হিন্দু-মুসলিম ঐক্য আন্দোলনের রাজ্য পর্যায়ের প্রতিনিধি প্রশিক্ষণ সম্মেলনে বিশেষ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে কর্ণাটকের বিভিন্ন জেলা থেকে জমিয়তের ৮০০-এর বেশি সদস্য, কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল অংশ নেন।

মাওলানা আসজাদ মাদানি বলেন, দেশ বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ এবং ধর্মের নামে বিভাজন ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন যৌথ সংস্কৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্বের ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু বক্তব্য ও সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে কথা বলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এ আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিদ্বেষের জবাব বিদ্বেষ দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা, সদাচরণ ও মানবসেবার মাধ্যমে দিতে হবে। কারণ, ঘৃণার দেয়াল ভাঙতে পারে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব।

ইসলামের মানবিক শিক্ষার কথা তুলে ধরে মাওলানা আসজাদ মাদানি বলেন, ইসলাম মানুষকে সহমর্মিতা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও সৃষ্টির সেবার শিক্ষা দেয়। কোনো অভাবগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় বিবেচনায় নেওয়া উচিত নয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শে মানবতা, দয়া, ন্যায়বিচার ও সদাচরণের যে শিক্ষা রয়েছে, তা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে। নিজেদের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে পারলে সমাজের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব কমবে।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনটি স্বাধীনতার আগে ও পরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য, জাতীয় সংহতি এবং ভারতের যৌথ সংস্কৃতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্যেই দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিহিত।

তিনি আরও বলেন, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা কিংবা নির্বাচনী স্বার্থ অর্জন এ উদ্যোগের লক্ষ্য নয়। বরং বিভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক শ্রেণির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, ভালোবাসা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই এর উদ্দেশ্য।

আন্দোলনকে কার্যকর করতে জমিয়তের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আসজাদ মাদানি বলেন, এ উদ্যোগকে শুধু বড় শহর, কেন্দ্রীয় কার্যালয় কিংবা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। জেলা, উপজেলা, শহর, গ্রাম, মহল্লা ও পাড়া পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। প্রতিবেশীদের সুখ-দুঃখে অংশ নিতে হবে এবং স্থানীয় বিরোধ ও সামাজিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মান চান। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে এ ইতিবাচক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মানবিকতা, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে কর্ণাটকের সভাপতি মাওলানা আবদুর রহিম রশিদি। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ খান আমিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে তামিলনাড়ুর সভাপতি মুফতি সাবিল আহমদ কাসেমি, জমিয়তে উলামায়ে ঝাড়খণ্ডের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শিহাবুদ্দিন কাসেমিসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল।

বক্তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাওলানা আসজাদ মাদানির দোয়ার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়।

আরএইচ/