
|
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান: মানসিক সুস্থতায় কতটা প্রভাব ফেলে?
প্রকাশ:
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪৫ রাত
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক পানি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখা এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। কেউ কেউ আবার তৃষ্ণা অনুভব না করা পর্যন্ত পানি পান করেন না। সম্প্রতি এক লেখক টানা সাত দিন প্রতিদিন ১৩ কাপ পানি পান করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, এ অভ্যাসের ফলে তিনি মানসিকভাবে আগের চেয়ে ভালো অনুভব করেছেন, কর্মদিবসে মাথাব্যথা কম হয়েছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আগ্রহও কিছুটা কমেছে। তবে এটি ছিল একজন ব্যক্তির নিজস্ব অভিজ্ঞতা; শুধু এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পানি পান করলেই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সাত দিনে কী পরিবর্তন অনুভব করলেন তিনি? প্রথম দিন থেকেই লেখক নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। সকালে কফি পান করার আগে দুই কাপ পানি দিয়ে দিন শুরু করেন। এরপর বাইরে যাওয়ার সময়, খাবারের সঙ্গে এবং ঘরে ফেরার পর নিয়ম করে পানি পান করতে থাকেন। প্রথম দিনেই ১৩ কাপ পানি পান করতে পারায় তাঁর মধ্যে একধরনের তৃপ্তি তৈরি হয়। দ্বিতীয় দিন থেকে এই অভ্যাস তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে ওঠে। ব্যায়াম করার আগে ও পরে পানি পান করেন। কাজের ফাঁকে এবং রান্নাঘরে যাওয়ার সময়ও এক গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করেন। তৃতীয় দিনে তিনি নিজেকে আগের সোমবারগুলোর তুলনায় কম খিটখিটে মেজাজের বলে অনুভব করেন। প্রস্রাবের রংও আগের চেয়ে হালকা হলুদ দেখতে পান। চতুর্থ দিনে তিনি লক্ষ করেন, নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহার করলেও কর্মদিবসের শেষভাগে যে মাথাব্যথা সাধারণত অনুভব করতেন, তা তখন পর্যন্ত হয়নি। পঞ্চম দিনে ব্যস্ততার মধ্যেও পানি পানের অভ্যাস বজায় রাখেন। সেদিন থেরাপিস্টের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, বেশ কিছুদিনের মধ্যে ওই সপ্তাহেই মানসিকভাবে সবচেয়ে ভালো অনুভব করছেন। পরে তাঁর মনে হয়, পানি পান বাড়ানোর সঙ্গে এই পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় পানি না পান করায় সেদিন আবার মাথাব্যথা শুরু হওয়ার মতো অনুভূতিও হয়েছিল। ষষ্ঠ দিনে তিনি লক্ষ করেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। আর সপ্তম দিনে এসে নিয়মিত পানি পান করাকে তাঁর কাছে আর আলাদা কোনো পরীক্ষা বলে মনে হয়নি; বরং এটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তাঁর অভিজ্ঞতায়, পর্যাপ্ত পানি পান করার ফলে শরীর সতেজ মনে হয়েছে এবং মানসিক অবস্থাও তুলনামূলক ভালো ছিল। তবে এসব পরিবর্তনের পেছনে পানি ছাড়াও ঘুম, ব্যায়াম, আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা প্রয়োজন? প্রতিদিন সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করে। পুষ্টিবিশেষজ্ঞ ক্রিস্টি সোয়াইডের মতে, নিয়মিত পানি পান করার জন্য ১৩ কাপ একটি লক্ষ্য হতে পারে। তবে ব্যায়াম, গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, জ্বর কিংবা অসুস্থতার সময় শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ জেনিফার প্যালিয়ানের মতে, নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করার চেয়ে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পানির অভাব কি মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে? শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মনোযোগে সমস্যা এবং কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পানিশূন্যতা বেশি হলে চিন্তাভাবনা ও মানসিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হিসেবে একে বিবেচনা করা উচিত নয়। প্রস্রাবের রং থেকেও কি পানির চাহিদা বোঝা যায়? প্রস্রাবের রং শরীরে পানির অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। সাধারণত হালকা হলুদ রঙের প্রস্রাব পর্যাপ্ত পানির ইঙ্গিত দেয়। গাঢ় হলুদ প্রস্রাব পানির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। তবে প্রস্রাবের রং শুধু পানির ওপর নির্ভর করে না। কিছু ওষুধ, ভিটামিন, খাবার এবং শারীরিক সমস্যার কারণেও রঙের পরিবর্তন হতে পারে। তাই শুধু প্রস্রাবের রং দেখে নিজের পানির চাহিদা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত পানি পান করাও কি ক্ষতিকর? পানি শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও অতিরিক্ত পানি পান বিপজ্জনক হতে পারে। অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্কের কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কিডনি, হৃদ্যন্ত্র বা লিভারের কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করতে হয়। তাঁদের জন্য সবার মতো নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করার লক্ষ্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে চাইলে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা একটি সহজ ও কার্যকর অভ্যাস। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করার মাধ্যমে ক্লান্তি, মাথাব্যথা কিংবা মনোযোগের সমস্যার মতো কিছু উপসর্গ কমতে পারে। তবে প্রতিদিন ১৩ কাপ পানি পান করতেই হবে—এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। সূত্র: লাইফস্টাইলবিষয়ক মূল নিবন্ধ ও উদ্ধৃত পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অবলম্বনে। এসএইচ/ |