শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর শরয়ি বিধান
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৩২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক 

হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে অনেকে পরিচিতজন, সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের ‘শারদীয় শুভেচ্ছা’ জানিয়ে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। তবে অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর শরয়ি বিধান কী, তা জানা প্রয়োজন।

ইসলামি ফিকহের একটি মত অনুযায়ী, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাদের শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নয়। এ মতের পক্ষে প্রখ্যাত ফকিহ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তাঁর আহকামু আহলিয যিম্মাহ গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি সম্মতি প্রকাশের শামিল হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ

‘তোমরা কুফরি করলে আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না।’ (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৭)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পরিপূর্ণ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বিন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩)

এ আয়াতগুলো থেকে ইসলামের স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয় ও আকিদা রক্ষার গুরুত্ব প্রতীয়মান হয়। এ কারণে উল্লিখিত ফিকহি মত অনুযায়ী, অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবকে অভিনন্দন জানানো থেকে মুসলমানদের বিরত থাকা উচিত।

সৌজন্য ও ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে পার্থক্য

অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজখবর নেওয়া এবং সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামে স্বীকৃত। তবে সাধারণ সৌজন্য প্রকাশ এবং কোনো ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো এক বিষয় নয়। তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, এমন সৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা যেতে পারে।

কোনো অমুসলিম প্রতিবেশী বা সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তার ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানানো অপরিহার্য নয়। বরং সাধারণ সময়ে সদাচরণ, সহযোগিতা ও ন্যায়সংগত আচরণের মাধ্যমেও সৌহার্দ্য প্রকাশ করা সম্ভব।

উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও উপহার বিনিময়

ধর্মীয় উৎসবের উপাসনামূলক আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করার বিষয়টি শুভেচ্ছা জানানোর চেয়ে স্বতন্ত্র। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করে শরয়ি বিধান নির্ধারণ করতে হয়।

একইভাবে উৎসব উপলক্ষে উপহার দেওয়া, খাবার বিনিময় কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিধানও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই সব ধরনের উপহার বিনিময় বা সামাজিক যোগাযোগকে একই বিধানের আওতায় ফেলা সমীচীন নয়।

সারকথা

অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে একদল আলেম নিষেধাজ্ঞার মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের শুভেচ্ছা ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মতি প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে। তবে অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী নয়। ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক সম্পর্ক রক্ষা করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র:

১. ইবনুল কাইয়্যিম, আহকামু আহলিয যিম্মাহ।

২. মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিশ শাইখ ইবনে উসাইমিন, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৬৯।

এসএইচ/