
|
এক বছরে মাদরাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজার
প্রকাশ:
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৪৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে এক বছরে চার লাখের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাদরাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দাখিল, আলিম, ফাজিল (পাস), ফাজিল (অনার্স) ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়—এমন মাদরাসায় শিক্ষার্থী ছিল ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ২৭ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি। সে হিসাবে এক বছরে মাদরাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদরাসার সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে এ ধরনের মাদরাসা ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টিতে। অর্থাৎ এক বছরে মাদরাসার সংখ্যা বেড়েছে ২৭টি। ব্যানবেইসের প্রতিবেদনটি গত জুনে প্রকাশিত হয়। এতে মূলত মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তবে মাদ্রাসার এই হিসাবের মধ্যে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদরাসার তথ্য অন্তর্ভুক্ত নেই। এদিকে একই সময়ে দেশের সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। ২০২৫ সালে তা কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনাকালীন শিখন ঘাটতি, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও পরিবারের আর্থিক সংকটের মতো বিষয়গুলোকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, শিশুশ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমের প্রভাব থাকতে পারে। তবে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন। এসএইচ/ |