
|
‘জ্বালানি সংকটে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন রপ্তানিকারকরা’
প্রকাশ:
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৪ রাত
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক তেল-গ্যাসের সংকট ও বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের কারণে দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, উৎপাদন কমলেও শ্রমিকদের মজুরি ও কারখানার নিয়মিত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাদ জোহর লক্ষ্মীপুর টাউন হল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও নাগরিক জীবনের সংকট সমাধানের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প। এ খাতের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা সরকারি ভর্তুকি পেলেও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ খাতের অনিয়মের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, কমছে আয় এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের অনিয়মের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জ্বালানি খাতে বিদেশি স্বার্থের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের অনিয়ম বন্ধ করে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, জনগণ গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে শুধু সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাওয়া জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। জুলাই জাতীয় সনদ ও এর অভিপ্রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার স্থায়ী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্য পূরণে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য। মাওলানা মামুনুল হক জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল আজিজ। বিশেষ বক্তা ছিলেন শায়খ মুফতি আবদুল মতিন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসএইচ/ |