
|
ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীর মানসিক অবস্থা বিবেচনার আহ্বান
প্রকাশ:
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৩ রাত
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীর মানসিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মিসরের দারুল ইফতা। এ বিষয়ে মুফতি ও ফতোয়া বিভাগের কর্মকর্তাদের সচেতনতা বাড়াতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ‘ফাহিম’-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি অধ্যাপক ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় মানসিক স্বাস্থ্যের সাম্প্রতিক গবেষণা, ব্যক্তির আচরণ এবং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ফতোয়া বিভাগের কর্মকর্তা, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। কর্মশালায় মিসরের দারুল ইফতার গ্র্যান্ড মুফতি ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ বলেন, মানবিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীর পরিস্থিতি এবং তাঁর মানসিক ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন ধারণা থাকা জরুরি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আরও সামগ্রিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবার যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলোর প্রকৃতি ভালোভাবে বোঝা যাবে। ফলে ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সমস্যার বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নেওয়া সহজ হবে। কর্মশালায় ‘ফাহিম’ মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাষ্ট্রদূত নাবিলা মাকরাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত সংস্থার অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা এবং সামাজিক কলঙ্ক মোকাবিলা করা প্রয়োজন। কারণ, এসব কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে দ্বিধা করেন। আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক এবং ‘ফাহিম’-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. আবদুন নাসের ওমর মানসিক রোগ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব ধরনের মানসিক সমস্যাকে একভাবে দেখা কিংবা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তির মানসিক অবস্থার ধরন এবং তা তাঁর চিন্তা ও উপলব্ধির ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তার ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে। কর্মশালায় ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, সমস্যার ধরন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বোঝা এবং প্রশ্নকারীর ব্যক্তিগত অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল থাকার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে মানসিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি দারুল ইফতা ও ‘ফাহিম’-এর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। সূত্র: গ্র্যান্ড মুফতির ফেসবুক পেইজ এসএইচ/ |