রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের 
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:২০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর ও সৌদি আরব। চার দেশ যৌথ বিবৃতিতে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, কোনো অজুহাতেই এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য বা সমর্থনযোগ্য নয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন করে হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন। এর আগের দিন হুতিদের দাবি করা আরেকটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।

‘আর-৪’ নামে পরিচিত চার দেশের জোট সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে হামলা মোকাবিলা, হুমকি প্রতিরোধ এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সৌদি আরবের নেওয়া সব ‘বৈধ পদক্ষেপের’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তারা।

রোববারের যৌথ বিবৃতিতে চার দেশ বলেছে, এসব হামলার পরিণতি এবং এর ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ দায় হুতি গোষ্ঠীর। তারা অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

গত আগস্টে তুরস্ক ও পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। গত সপ্তাহে দেশগুলো জানায়, হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনসহ যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা একমত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে আঙ্কারা। তবে তিনি সেনা মোতায়েন এবং আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে তুরস্কের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন। এর আগের দিন তুরস্কের কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, রিয়াদকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত সৌদি আরবকে তুরস্কের সহায়তা মূলত দ্বিপক্ষীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তুরস্কের পার্লামেন্টে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হতে পারে।

ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সেনাবাহিনী জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম। দেশটির শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পও রয়েছে। সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতেও সম্মত হয়েছে তুরস্ক।

সূত্র: রয়টার্স

আইও/