জাতীয় খতিবকে ঘিরে সমালোচনা: ধর্মীয় অঙ্গনে ক্ষোভ
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২৬ রাত
নিউজ ডেস্ক

|| আবদুর রউফ আশরাফ ||

বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ ইসলামি আইন ও হাদিসশাস্ত্রে সুপরিচিত একজন আলেম। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইসলামিক স্টাডিজ, হাদিস ও ফিকহ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত মুফতি বিচারপতি আল্লামা তাকি উসমানি এবং বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর নামও উল্লেখ আছে বলে জানা যায়।

২০২৪ সালের অক্টোবর তাঁকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লামা মুফতি আবদুল মালেককে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা ও বিরূপ মন্তব্য ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সমালোচনার ধরন ও ভাষা নিয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে একজন জাতীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে রাজনৈতিক বা দলীয় বিভাজনের দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যাচাই ছাড়া অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি একজন আলেমের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন থাকলে তা শালীন ও তথ্যভিত্তিকভাবে আলোচনাও জরুরি।

আল্লামা মুফতি আবদুল মালেকের সমর্থকদের বক্তব্য একজন আলেমের মতামত বা কোনো বক্তব্যের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অবমাননাকর ভাষা কিংবা সামাজিক বিভাজন তৈরি করা কাম্য নয়। তাঁদের মতে, জাতীয় মসজিদের খতিবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পদে থাকা একজন আলেমকে ঘিরে যেকোনো বিতর্ক আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা উচিত।

অন্যদিকে, সমালোচকদের বক্তব্যও যথাযথভাবে শোনা এবং কোনো বিতর্ক থাকলে প্রমাণ, বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে তার জবাব দেওয়া প্রয়োজন। এতে ব্যক্তি আক্রমণের পরিবর্তে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক ধর্মীয়-সামাজিক আলোচনা তৈরি হতে পারে।

ধর্মীয় অঙ্গনে মতপার্থক্য নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু মতপার্থক্য যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ, দলীয় বিভাজন কিংবা পারস্পরিক বিদ্বেষে রূপ নেয়, তখন তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বৃহত্তর সমাজেও তার প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

তাই জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেককে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনায় আবেগের পরিবর্তে প্রজ্ঞা, অপপ্রচারের পরিবর্তে তথ্য এবং বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন ধর্মীয় প্রজ্ঞাবানরা।

এসএইচ/