কাঁদতে কাঁদতে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বাবরি মসজিদের উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীরের
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোট শেষ হওয়ার পরদিনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পুলিশের সঙ্গে সংঘাত, আটক এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগের পর বুধবার সাংবাদিকদের সামনে কাঁদতে কাঁদতে তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা জানান।

পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সিপিএমের সময়ে ক্যাডাররা ভোট করত। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখত। এখন পুলিশ ক্যাডারের ভূমিকায় নামল। এ রাজনীতিতে থাকতে চাই না। আমি রেজিনগরের মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’ এ সময় বিধানসভায় না যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। হুমায়ুন বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী যতদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, ততদিন বিধানসভায় যাব না।’ এর আগে মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর হুমায়ুন অভিযোগ করেন, কয়েকটি বুথে পুলিশ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং তাঁর দলের কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। পরে নিজের দলের কার্যালয়ের বাইরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁকে আটক করা হয়।

প্রায় ১২ ঘণ্টা হেফাজতে থাকার পর বুধবার তিনি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন। এদিন হুমায়ুনের আচরণেও ছিল ভিন্ন সুর। সাধারণত আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য পরিচিত এই নেতা পুলিশের ভূমিকা ও প্রশাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রেজিনগরের ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়নি এবং বিজেপি জয়ী হবে।ভোটের ফল প্রকাশের আগেই তাঁর এমন মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।রেজিনগর আসনের ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর।

রেজিনগর আসনটি হুমায়ুন কবীরের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি একই সঙ্গে নওদা ও রেজিনগর আসন থেকে জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী দুটি আসনের একটি ছাড়তে হয়। তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখায় রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার ওই আসনে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ এজেইউপির প্রার্থী হয়েছেন। ফলে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই বাবার রাজনীতি ছাড়ার ইঙ্গিত এবং ছেলের নির্বাচনী লড়াই—দুটি বিষয়ই রেজিনগরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে হুমায়ুন কবীর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি বা বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। নওদার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল

টিএইচএ/