
|
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পেছাল
প্রকাশ:
০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন। পরে আপত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও মঈনুল করিম। এদিন মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, পুলিশের সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা। মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক লে. জেনারেল মজিবুর রহমান এবং পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন ও আশরাফুজ্জামান, এডিসি এস এম মেহেদী হাসান ও মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বি এম ফরমান আলীও পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন। গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের ঠিকানায় খুঁজে না পেয়ে ‘নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট’ (এনইআর) দাখিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে দুটি জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পলাতক দেখিয়ে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য ছিল। তবে বুধবারের শুনানি শেষে তা পিছিয়ে ১ নভেম্বর করা হলো। প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি পৃথক ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে। এতে ২০ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইও/ |