‘মুহাম্মদ সা. শেষ নবী, যারা মানবে না তাদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে’
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২২ রাত
নিউজ ডেস্ক

কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের বিভিন্ন প্রকাশনা বাজেয়াপ্তের দাবিতে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক চকবাজার শাহী মসজিদ চত্বরে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর লালবাগ জোনের উদ্যোগে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সংগঠনটি একই দাবিতে ২ অক্টোবর চকবাজার শাহী মসজিদে মহাসম্মেলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী ও রাসুল। তাঁর পর আর কোনো নবী আসবেন না—এটাই ইসলামের মৌলিক আকিদা। কাদিয়ানী সম্প্রদায় এই আকিদার পরিপন্থী মতবাদ প্রচার করছে দাবি করে তিনি বাংলাদেশে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের বিভ্রান্তিকর প্রকাশনা বাজেয়াপ্তের দাবি জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে আইনগতভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রচারমাধ্যম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের মতবাদ সাধারণ মুসলিম সমাজে তুলে ধরছে। খতমে নবুওয়তের আকিদা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস হওয়ায় এ বিষয়ে মুসলমানদের সচেতন থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কোরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিসে নবুওয়তের সমাপ্তির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাদিয়ানী মতবাদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। মুসলমানদের এ বিষয়ে সঠিক আকিদা ও জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

হযরত ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন প্রসঙ্গে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ইসলামী আকিদা অনুযায়ী কিয়ামতের পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে আগমন করবেন; তবে তিনি নতুন কোনো শরিয়ত বা নবুওয়তের দাবিদার হিসেবে নয়, বরং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে আগমন করবেন।

তিনি আরও বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ পরিচয়সহ বিভিন্ন ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহার করে তাদের মতবাদ প্রচার করছে। এ কারণে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই কাদিয়ানী মতবাদের মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং খতমে নবুওয়তের আকিদা সংরক্ষণে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি বলেন, খতমে নবুওয়তের আকিদা রক্ষা করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা শওকত হোসাইন সরকার, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মুফতি খোবাইব আহমাদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মাসঊদুল করীম, মাওলানা শাব্বির আহমাদ কাসেমী, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মুফতি মুহাম্মদ নোমান, মাওলানা এনামুল হক মুসা, শায়েখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতি সালাহ উদ্দিন, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মুফতি গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাওলানা আলী আজম ও মাওলানা আফসার মাহমুদসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনে বক্তারা খতমে নবুওয়তের আকিদা সম্পর্কে মুসলমানদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এসএইচ/