
|
জুমার দিনে সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের মাহাত্ম্য
প্রকাশ:
০২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| শরিফ হাসানাত || জুমার দিন মুসলমানের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে নামাজ, দরুদ, জিকির ও দোয়ার পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিও বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিত। জুমার দিনের আমলগুলোর মধ্যে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত একটি প্রসিদ্ধ ও ফজিলতপূর্ণ আমল। হাদিসে এ সূরা তিলাওয়াতের বিশেষ মর্যাদা এবং ‘নূর’ বা আলোর সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে। দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে নূর হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর আলোকিত করে দেবে।’ এই বর্ণনাটি হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে এসেছে এবং বহু আলেম জুমার দিনে সূরা কাহাফ তিলাওয়াতকে মুস্তাহাব আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এখানে ‘নূর’ বলতে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত, কল্যাণ ও আলোর বিশেষ অনুগ্রহ বোঝানো হয়েছে। মুমিনের জীবনে কুরআনের আলো যেমন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করে, তেমনি এই আমলও তার ঈমানি জীবনকে আলোকিত করার একটি মাধ্যম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেও তিলাওয়াত করা যায় ইসলামি পরিভাষায় জুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত জুমার দিন থাকে। তাই সূরা কাহাফ বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার মাগরিবের আগ পর্যন্ত তিলাওয়াত করা যায়। হাদিসের বর্ণনায় জুমার রাতেও সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের ফজিলত উল্লেখ হয়েছে। তাই কারও পক্ষে শুক্রবার দিনের ব্যস্ততার কারণে তিলাওয়াত করা সম্ভব না হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরই এ আমলটি করে নেওয়া যেতে পারে। দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা সূরা কাহাফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এর প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করার ব্যাপারে নবীজি (সা.) বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ অন্য একটি বর্ণনায় সূরা কাহাফের শেষ দশ আয়াতের কথাও এসেছে। কেন সূরা কাহাফ এত তাৎপর্যপূর্ণ? সূরা কাহাফ একটি ফজিলতপূর্ণ সূরা। এর আয়াতগুলো মানুষের জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষার বিষয়ে গভীর শিক্ষা দেয়। সূরাটিতে গুহাবাসী যুবকদের ঈমান রক্ষার ঘটনা, দুই বাগানের মালিকের ঘটনা, মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা এবং যুলকারনাইনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এসব ঘটনায় ঈমান, সম্পদ, জ্ঞান, ক্ষমতা, দুনিয়ার মোহ, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। বিশেষত দাজ্জালের ফিতনা হবে ঈমানের জন্য ভয়াবহ পরীক্ষা। তাই সূরা কাহাফের শিক্ষা নিয়মিত স্মরণ করা একজন মুমিনের জন্য আত্মিক প্রস্তুতিরও অংশ হতে পারে। কখন পড়বেন? সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো এক ঘণ্টাকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিলাওয়াত করা যায়। কেউ শুক্রবার সকালে পড়তে পারেন, কেউ জুমার নামাজের আগে, আবার কেউ বৃহস্পতিবার রাতেই পড়ে নিতে পারেন। মূল বিষয় হলো—জুমার সময়সীমার মধ্যে আমলটি সম্পন্ন করা। মহান আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার যাবতীয় কাজকর্ম শেষে আখেরাতের সামানা সঞ্চয় করার তওফিক দান করুন। জুমাবারের আমলগুলো সথাসময়ে পালন করার জযবা দান করুন। আমীন। এসএইচ/ |