
|
ভারতে প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভেঙে ফেলা হলো ঐতিহাসিক মসজিদের অংশ বিশেষ
প্রকাশ:
০১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভেঙে ফেলা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মসজিদের অংশ অপসারণের কাজ শুরু হলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে। সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য মসজিদের অংশ অপসারণের উদ্যোগের প্রতিবাদে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশ মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। তাদের দাবি ছিল, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাটি অক্ষত রেখে বিকল্প উপায়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা হোক। রাতভর সেখানে অবস্থানের পর সোমবার সকালে প্রশাসন নির্ধারিত অংশ অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের পর মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্যও তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, কিছু বিভ্রান্তিকর ভিডিওতে পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়েছিল, যা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখে। এসব ভিডিও ও পোস্ট ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো মসজিদ অপসারণের পরিকল্পনা নেই। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের সীমানার মধ্যে পড়া মসজিদের একটি অংশই সরানো হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মসজিদ প্রাঙ্গণের ১০ শতাংশেরও কম। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চও বিষয়টি নিয়ে শুনানি করেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে জানানো হয়, মসজিদ-সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও উজ্জয়িনী পৌর করপোরেশনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং সেই সমঝোতার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা অনুযায়ী মসজিদের রাস্তার দিকে থাকা অংশের প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত অপসারণ এবং মিনার স্থানান্তরের বিষয়ও রয়েছে। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মসজিদের অংশ অপসারণের বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলো খারিজ করে প্রশাসনের সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রশস্ত করা প্রয়োজন। উজ্জয়িনী ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর। ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরজুড়ে সড়ক প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রশাসনের হিসাবে, এ সময় বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে। তাদের চলাচল ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা সহজ করতে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আইও/ |