জামায়াত থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দিলেন প্রকৌশলী
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার। ছাত্রজীবনে ছাত্র সংঘের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এমনকি দলটির রোকন হওয়ার প্রার্থীও ছিলেন।

তাকে রোকনের শপথ নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীলরা একাধিকবার তাগাদা দিয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেও সত্যের সন্ধান ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন আবুল বাশার।

মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্য শুনতেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, লেখা ও বিভিন্ন বিষয়ে নিজে থেকে পড়াশোনা ও অধ্যয়ন শুরু করেন। একপর্যায়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কার্যক্রম তাঁর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আমল, আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনের বাস্তব অনুশীলনের বিষয়গুলো তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

নিজের সংগঠনে যোগদানের প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার বলেন, ‘আসলে এই সংগঠনে আসার জন্য আমাকে কেউ দাওয়াত দেয়নি। আমি নিজে থেকেই খুঁজেছি। সাহাবি সালমান ফারসি (রা.) যেভাবে সত্যের সন্ধান করেছিলেন, আমিও সেভাবেই বিভিন্ন সংগঠন ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় অফিসেও অনেকবার নিজে গিয়েছি। বিভিন্ন বই নিয়েছি, বিভিন্ন কর্মসূচিতেও নিজের আগ্রহে অংশ নিয়েছি।’

সম্প্রতি কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত একটি তরবিয়তি মজলিসে আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক ইসলামের মৌলিক তিন কাজ এবং দ্বীন বিজয়ের চার স্তর নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর সেই আলোচনা আবুল বাশারের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, খোলা মাঠে আমিরে মজলিসের তেজস্বী ও ধারালো কণ্ঠ পুরো ময়দানকে জাগ্রত করে তোলে। কিন্তু তরবিয়তি মজলিসে তাঁর কণ্ঠ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—শান্ত, ধীর এবং গভীর বিষাদ ও দরদে পরিপূর্ণ। উম্মাহর সার্বিক সংকট নিয়ে তাঁর ব্যাকুলতা এবং উম্মাহকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন প্রতিটি কথায় ফুটে উঠছিল।

আবুল বাশার বলেন, ‘উন্মুক্ত মঞ্চের সেই আহ্বান আর নিভৃত মজলিসের এই দূরদর্শী ফিকির দেখে আমি সত্যিই অভিভূত হলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো অনেকবার শুনেছি—ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে করব, কোথা থেকে শুরু করব, কোন পদ্ধতিতে এগোব—এসব বিষয় নিয়ে এভাবে ভাবা বা জানার সুযোগ হয়নি।’

দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানের পর নতুন পথ খুঁজে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ দিকে এসে আল্লাহ আমাকে এই খেলাফত প্রতিষ্ঠার কাফেলায় নিয়ে এসেছেন। এখন যতদিন আল্লাহ হায়াত দেন, ততদিন আমি চেষ্টা করে যেতে চাই।’

এসএইচ/