যানজট কমাতে কড়া নির্দেশনা, অমান্যে জরিমানা 
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:১৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

ঢাকায় যানজট কমাতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সড়কে কাজ শুরুর আগে ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করতে দেরি হলে জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের তালিকা করে নিয়মিত অভিযান এবং ঢাকা মহানগরীর যেসব এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইন থেকে হুকের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নিয়ে চার্জিং চলছে, সেসব স্থানে ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানজট কমাতে রাস্তা খননে ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদন এবং রাস্তা কাটার কাজ রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে অবৈধভাবে পরিচালিত বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
সভায় বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন সংস্থাগুলো কাজ শুরুর মাত্র দুই-তিন দিন আগে ট্রাফিক বিভাগকে জানায়। আবার কখনো অনুমতি ছাড়াই খননকাজ শুরু করা হয়। বিশেষ করে শাখা ও সার্ভিস সড়কে এ কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার কাছ থেকে রাস্তা খননের অনুমতি নেওয়ার আগে ট্রাফিক বিভাগের মতামত নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, কাজের সময়সূচি ও ট্রাফিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করতে হবে। প্রধান সড়কে কাজ শুরুর আগে ডিটিসিএর অনুমোদন নিয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

যানজট কমাতে কর্মদিবসে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্মাণকাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্র ও শনিবার অধিক জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা কাজ চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা ও জরিমানা করা হবে। ভবিষ্যতে ঠিকাদার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ডিএমপির প্রতিবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
যান চলাচলে প্রভাব ফেলে এমন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প শুরুর আগে ট্রাফিক প্রভাব মূল্যায়ন (টিআইএ) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু প্রকল্প এলাকার করিডর নয়, পুরো ঢাকা সড়ক নেটওয়ার্কের ওপর প্রকল্পের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে হবে। একাধিক বিকল্প ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর পরিকল্পনা নির্বাচন করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ডাইভারশন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এরপর ডিটিসিএর অনুমোদন নিতে হবে।

নির্মাণস্থলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পর্যাপ্তসংখ্যক প্রশিক্ষিত ট্রাফিক সিগন্যালম্যান রাখতে হবে। উভয় পাশে অন্তত ৫-৬ ফুট উচ্চতার কংক্রিট বা স্টিলের ব্যারিয়ার দিতে হবে। চলাচলযোগ্য লেন বা ফুটপাতে নির্মাণসামগ্রী, বালু কিংবা যন্ত্রপাতি রাখা যাবে না। সাইটে পানির ট্যাংক, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের জরুরি নম্বরসংবলিত সাইনবোর্ড রাখতে হবে। কাজ শুরুর আগে মাইকিং বা প্রচারণার মাধ্যমে এলাকাবাসীকে জানাতে হবে।

পর্যাপ্ত নির্মাণসামগ্রী ছাড়া রাস্তা খনন করে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখা যাবে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্মাণকাজের কারণে বিকল্প সড়কে তৈরি হওয়া ছোট গর্ত দ্রুত সংস্কার করতে হবে। ঢাকা বিমানবন্দর ফ্লাইওভারসংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা মাটি ও নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরিয়ে সড়ক চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ থাকার কারণ চিহ্নিত করে জনসাধারণের চলাচলের ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে।

উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে প্রতি মাসে যৌথ পর্যালোচনা সভা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), ডিএমপির সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থা ও ঠিকাদারদের নিয়ে এ সভা হবে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে স্কুল-কলেজসংলগ্ন সড়ক ও হাসপাতাল এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং শব্দদূষণ আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর উন্নয়নকাজে সমন্বয় বাড়াতে ডিটিসিএকে আহ্বায়ক করে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসএইচ/