সমকামিতা: সামাজিক অবক্ষয় রোধে আমাদের করণীয়
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মুফতি শেখ মুহা. নাঈম বিন আ. বারী ||

​মানবসমাজের ভিত্তি হলো পরিবার। পুরুষ-নারীর সুশৃঙ্খল বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেই মানববংশধারা সুরক্ষিত থাকে। অথচ বর্তমান যুগে আধুনিকতার মোড়কে ‘সমকামিতা’ বা এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) এজেন্ডা একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এটি প্রকৃতির নিয়মের বরখেলাপ এবং সমগ্র মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের প্রমাণের পাশাপাশি জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আমাদের ঈমানি ও জাতীয় দায়িত্ব নির্ধারণ করা জরুরি।

শরয়ী দৃষ্টিতে সমকামিতা:

​ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে সমকামিতা একটি জঘন্যতম অপরাধ ও কবিরা গুনাহ। ​পবিত্র কুরআনে লূত (আ.)-এর কওমের ধ্বংসের ইতিহাস উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর আমি লূতকে প্রেরণ করেছিলাম; যখন সে তার কওমকে বলেছিল, তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বের কেউ করেনি!? তোমরা তো কামভাব চরিতার্থ করার জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে গমন করছ! তোমরা তো এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।” (সুরা আল-আরাফ: ৮০-৮১)

হাদিসে পাকে ​প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেছেন, “আমার উম্মতের ওপর লূত সম্প্রদায়ের আমল (সমকামিতা) পতিত হওয়ার ভয় আমি সবচেয়ে বেশি করছি।” (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।

​হাদিসে সমকামিতার কঠোর শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি লূত সম্প্রদায়ের কাজে লিপ্ত হয়, তাকে হত্যা করো—যে করে এবং যার সাথে করা হয় উভয়কে।” (তিরমিজি ও আবু দাউদ)।

সর্বযুগের ফকিহগণ একমত হয়েছেন যে, সমকামিতা কুফরি ও চরম ফাসেকির অন্তর্ভুক্ত একটি অপরাধ, যা মানববংশধারার পবিত্রতা এবং সামাজিক ভারসাম্য চিরতরে বিনষ্ট করে।

​বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান, পারিবারিক আইন ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতির সাথে সমকামিতা সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। দেশের পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারায়ও এই পশুবৎ প্রথার বিরুদ্ধে স্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব ও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা তথাকথিত ‘মানবাধিকার’-এর নামে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতাহীন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে এবং অন্যদেরও বাঁচাতে হবে।

আমাদের করণীয়:

এই মহামারি থেকে সমাজকে রক্ষা করতে করণীয় হলো— ​পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই ইসলামী মূল্যবোধ, শালীনতা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের তালিম নিশ্চিত করতে হবে। ​অভিভাবকদের সন্তানদের চালচলন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সুস্থ নজরদারি বাড়াতে হবে। ​গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমকামিতার পক্ষে চলা পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে। ​দেশের প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রোপাগান্ডাকারী সংস্থাসমূহের কার্যক্রম দমন করতে হবে। ​তবে এই মানসিক বিকার বা আসক্তির শিকার ব্যক্তিদের ঘৃণা না করে, বরং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।

​সমকামিতা নিছক ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নয়; বরং এটি মানবতা ও সব আসমানি ধর্মের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব।

লেখক: চেয়ারম্যান, সচেতন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ফেডারেশন

আইও/