
|
শাহবাগে ১৩ দফা শিক্ষা দাবি জানাল ছাত্র মজলিস
প্রকাশ:
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ১৩ দফা শিক্ষা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় ছাত্র কনভেনশন’-এ এসব দাবি জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ বলেন, “শিক্ষার গুণগত উন্নতি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং বেকারত্ব দূর করতে সরকারকে অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে।” শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন, বিবেক ও চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং এর মাধ্যমে নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন মানবিক ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা। শিক্ষা শুধু পার্থিব কল্যাণ নয়, বরং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশনাও দেয়। কিন্তু দেশের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী মৌলিক শিক্ষা অনুপস্থিত। বহুধারায় বিভক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের অন্যতম অন্তরায়। তিনি ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা শিক্ষা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন। ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস গ্রহণ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করুন।” তিনি আগামী অর্থবছর থেকে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, সরকারি নিয়োগসহ সব পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র চলছে। আগামী প্রজন্মের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, “নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে দখল করার ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করছি। ছাত্র মজলিসের একজন কর্মী দাঁড়িয়ে থাকতে কোনো ক্যাম্পাসকে বিপথে যেতে দেবে না।” এ সময় তিনি নিয়মিত ছাত্র সংসদ চালু রাখারও দাবি জানান। সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের সঞ্চালনায় কনভেনশনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রথম শহীদ আরমান (রহ.)-এর বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুফতি গোলাম রাব্বানী, ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসীর আলীসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতারা। ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি খাইরুল আহসান মারজান, জাগপা ছাত্র কাফেলার সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী এবং নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি মুহাম্মদ ফজলে রাব্বি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন শাখার নেতারা কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন। এসএইচ/ |