‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ছিলেন এক যুগের অভিভাবক’
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.কে দেশের দীনি অঙ্গনের ‘এক যুগের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন মাওলানা মামুনুল হক।

পোস্টে মাওলানা মামুনুল হক লিখেছেন, ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে দেশের দ্বীনি অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছিল। তাঁর ভাষায়, প্রবীণ একজন আলেম, শিক্ষক, মুরব্বি ও অভিভাবককে হারিয়েছিল দেশের মানুষ।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শিক্ষা ও দাওয়াতি জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দে ইলম অর্জনের পর দেশে ফিরে আল্লামা শফী নিজেকে ইলমে দীনের শিক্ষা ও প্রচারে নিয়োজিত করেন। দীর্ঘদিন দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষকতা ও তালিম-তারবিয়াতের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য আলেম ও তালিবে ইলম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বীনের খেদমত করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর অবমাননা, ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিক্যবাদী অপপ্রচার এবং ঈমান-আকিদার প্রশ্নে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. দেশের আলেম-উলামা ও তৌহিদি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তাঁর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে উল্লেখ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে লাখো মানুষের সমাবেশ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। ওই আন্দোলনের ‘আধ্যাত্মিক অভিভাবক’ হিসেবে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, দ্বীনি শিক্ষা, আলেম-উলামার ঐক্য, কওমি মাদরাসার স্বাতন্ত্র্য এবং ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর দীর্ঘ অবদান রয়েছে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি ইলম, তালিম ও দ্বীনের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পোস্টের শেষে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর জন্য দোয়া করেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি তাঁর সব দ্বীনি খেদমত কবুল, ভুলত্রুটি ক্ষমা, কবর নূরে ভরপুর এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে উচ্চ মাকাম দানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

এসএইচ/