
|
২০২৭ সালে কোন এয়ালাইন্স কত হাজি বহন করবে, কোটা নির্ধারণ
প্রকাশ:
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১০ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক ২০২৭ সালের হজযাত্রী পরিবহনে তিনটি এয়ারলাইন্সকে কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫০ শতাংশ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি তিন এয়ারলাইন্সের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে কতজন হজে যেতে পারবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০২৭ সালের দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তি আগামী ৬ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তির পর বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে। এর আগেই পরিবহন প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে যাত্রী পরিবহনের কোটা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়া এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আরবের নির্ধারিত দুটি বিমানবন্দরের জন্যও কোটা অনুসরণ করতে হবে। মোট হজযাত্রীর ৮০ শতাংশ জেদ্দা বিমানবন্দর এবং ২০ শতাংশ মদিনা বিমানবন্দর দিয়ে পরিবহন করতে হবে। সরকার ঘোষিত হজ প্যাকেজে নির্ধারিত বিমান ভাড়ার মধ্যেই হজযাত্রী পরিবহন করতে হবে। এজন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। এসব ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। কোটা বরাদ্দের ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে ফ্লাইট সূচির খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ)-এর কাছে পাঠাতে হবে। এর একটি অনুলিপি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কেও দিতে হবে। জিএসিএ ও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমোদিত ফ্লাইট সূচি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট ও হজ পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। হজযাত্রীদের টিকিট বিক্রি ও তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। এজেন্সির কাছ থেকে টিকিটের চাহিদা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারলাইন্সকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। পে-অর্ডার পাওয়ার পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে হজযাত্রীর নামে টিকিট ইস্যু করতে হবে। টিকিট ইস্যুর পর সংশ্লিষ্ট তথ্য এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ই-হজ ব্যবস্থায় সংযোজন করতে হবে। একই সঙ্গে পিএনআর, টিকিট ও ফ্লাইট নম্বর উল্লেখ করে হজযাত্রীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানাতে হবে। হজ ফ্লাইট শুরুর অন্তত এক মাস আগে ই-হজ ব্যবস্থায় তথ্য সংযোজন, টিকিট বিক্রির এসএমএস এবং অন্যান্য সেবা প্রস্তুতির বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে হবে। হজে যাওয়ার আগে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হলে তাঁর টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে। মৃত হজযাত্রীর সঙ্গে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের কোনো সদস্য হজে যেতে না পারলেও তাঁর বিমান ভাড়ার অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর কোনো হজযাত্রীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের কাছে টিকিটের ৫০ শতাংশ ভাড়া ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা, গুরুতর অসুস্থতা, ভিসা জটিলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত ফ্লাইটে কোনো হজযাত্রী যেতে না পারলে তাঁকে প্রতিস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর ক্ষেত্রে হজ অফিস, ঢাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে নির্ধারিত ফ্লাইটের অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সকে বিষয়টি জানাতে হবে। নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত হজযাত্রীর পে-অর্ডার গ্রহণ বা তাদের পরিবহন করতে পারবে না কোনো এয়ারলাইন্স। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, এর ব্যত্যয় ঘটলে তা হজ ব্যবস্থাপনায় অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। হজ শেষে দেশে ফেরার সময় টিকিট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাসকে। এ ছাড়া হজের নিয়মকানুনসংক্রান্ত ভিডিও বিমানে হজযাত্রীদের প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতাকে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অসহযোগিতা বা অবহেলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ করা কোটা কমানো, বাড়ানো, পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষমতা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করেছে। আইও/ |