দাওরায়ে হাদিসের মেধাবৃত্তির অর্থ বোর্ডে পাঠিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:২০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ১৪৮ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মেধাবৃত্তির অর্থ সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর কাছে পাঠিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। গত ৯ সেপ্টেম্বর বোর্ডগুলোকে এ অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বোর্ড থেকে বৃত্তির অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। তবে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ বোর্ডভুক্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয় থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে হবে।

চলতি বছর মেধাবৃত্তির জন্য নির্বাচিত ১৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২২ জন ছাত্র ও ২৬ জন ছাত্রী। ছাত্রদের জন্য মোট ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং ছাত্রীদের জন্য ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃত্তির নির্ধারিত হারে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ১৫ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত প্রত্যেককে ৭ হাজার টাকা এবং ১১তম স্থান থেকে মেধা তালিকার শেষ পর্যন্ত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। একই মেধাস্থানে একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে প্রত্যেকেই ওই স্থানের নির্ধারিত হারে বৃত্তি পাবেন।

আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কওমি মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ১৪৩৮ হিজরী/২০১৭ ঈসাব্দ থেকে ধারাবাহিকভাবে মেধাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। ১৪৩৮ থেকে ১৪৪৭ হিজরী পর্যন্ত ১০ বছরে মোট ১ হাজার ৫৭২ শিক্ষার্থীকে ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪৩৮ হিজরী/২০১৭ সালে ১৩৯ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা, ১৪৩৯/২০১৮ সালে ১২৩ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ১৪৪০/২০১৯ সালে ১৪৩ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ১৪৪১/২০২০ সালে ১৩০ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৮৮ হাজার এবং ১৪৪২/২০২১ সালে ১৯৬ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়।

এরপর ১৪৪৩/২০২২ সালে ১৭২ শিক্ষার্থীকে ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ১৪৪৪/২০২৩ সালে ১৩৫ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, ১৪৪৫/২০২৪ সালে ১৯৬ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং ১৪৪৬/২০২৫ সালে ১৯০ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৪৪৭/২০২৬ সালে ১৪৮ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

আল-হাইআতুল উলয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৩ হিজরী/২০২২ সাল পর্যন্ত মেধাবৃত্তির অর্থ প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে সরাসরি বিতরণ করা হতো। ১৪৪৪/২০২৩ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর কাছে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এরপর বোর্ডগুলো মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করছে। চলতি বছরও একই পদ্ধতিতে বৃত্তির অর্থ পাঠানো হয়েছে।

তবে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ বোর্ডভুক্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয় থেকে সরাসরি নিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করতে হবে। পরে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মুহতামিম বা নাজিমে তা‘লিমাতের সিল ও স্বাক্ষরসহ আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বৃত্তির অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।

আল-হাইআতুল উলয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আয়ের উৎস। সাময়িক সনদ ও নম্বরপত্রের জন্য যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ টাকা ফি নেওয়া হলেও মূল সনদ ও নম্বরপত্রের জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না। নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফি থেকে পরীক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ আয় থেকেই গত এক দশকে মেধাবৃত্তি বাবদ ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

আইও/