ঢাকায় হেফাজতের জরুরি সভা, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৫ রাত
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, মুসলিমদের হেবা (দান) ও সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নতুন আইনি বিধান কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই বিলটি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজত আমির।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মুফতি আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী, মাওলানা সালাহউদ্দিন ও মুফতি এনামুল হক কাসেমীসহ সংগঠনের নেতারা।

সভায় বলা হয়, ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। এতে মুসলিমদের হেবা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হেফাজত নেতৃবৃন্দের দাবি, আইনটি কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা সংশোধন করা প্রয়োজন।

হেফাজত নেতারা বলেন, মুসলিম-প্রধান দেশে ইসলামী শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো আইন সংসদে উত্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। কুরআনের নিজস্ব আইনগত কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে আইন প্রণয়ন করা শরিয়াহকে অবজ্ঞা করার শামিল বলেও তারা মন্তব্য করেন।

তারা বলেন, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে তারা অস্বীকার করেন না। তবে মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের যথাযথ পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও নিন্দা জানায় হেফাজত। নেতৃবৃন্দ বলেন, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের উচিত আলেম-ওলামাকে উপেক্ষা না করে তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শোনা। কোনো বিষয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিরা আইন পড়েছেন কি না—এ ধরনের প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে তাদের আপত্তির শরিয়াগত ও আইনগত ভিত্তি যাচাই করা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণ।

হেফাজত নেতারা আরও বলেন, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টন ব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, অহেতুক বিরোধে না গিয়ে আলেম-ওলামা ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধান করতে হবে। হেবা প্রথা ও মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধানগুলো অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও দাবি জানান তারা।

সভায় বিলটি সংশোধনের দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসএইচ/