ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট নিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বাসভবনে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে ৭-৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেখানে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা এমপি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সরকারি কলেজের মূল মাঠে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না।’

দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অশ্লীলতা হবে না—এই শর্তে ভেতরের মাঠে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও আলোচনা সভা এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘কলেজের লোকজন ও মাদরাসার ছাত্রদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম। একটা সমঝোতা হয়েছে।’

এর আগে নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের খবরে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারি কলেজের মাঠে কনসার্ট না করার দাবি জানানো হয়।

বৈঠকের পর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফেসবুক পেজে জানানো হয়, কলেজ মাঠে কনসার্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবীনবরণ, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ফলে কনসার্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা বিরোধের অবসান হলো। এখন মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও আলোচনা সভা এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নির্ধারিত শর্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এসএইচ/