
|
১০ বছরের মধ্যে এআই ‘সবাইকে মেরে ফেলতে পারে’: প্রযুক্তিবিদ
প্রকাশ:
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩৪ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তিবিদ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চূড়ান্ত ধাপ ‘আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স’ (এএসআই) নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, অত্যন্ত উন্নত এআই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি কিছু বিশেষজ্ঞের দাবি, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা প্রায় ১০ শতাংশ। এ তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে। এআই প্রযুক্তি যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে হিমশিম খাচ্ছেন পশ্চিমা বিশ্বের আইনপ্রণেতারা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনও এআইকে কেবল একটি সাধারণ ওয়েবভিত্তিক প্রযুক্তি বা টুল হিসেবেই দেখছেন। সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে কম্পিউটার বিজ্ঞানী অধ্যাপক স্টুয়ার্ট রাসেল সতর্ক করে বলেন, সামনে ‘চেরনোবিলের মতো কোনো বড় বিপর্যয়’ ঘটতে পারে অথবা মানবজাতি চিরতরে এর (এআই) নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব ডেস ব্রাউন এতে যোগ করে বলেন, সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই পরমাণু যুদ্ধের চেয়েও মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হতে পারে। কন্ট্রোল এআই বর্তমানে লেবার পার্টির এমপি অ্যালেক্স সোবেলের প্রস্তাবিত একটি নতুন বিলকে সমর্থন করছে। এর মূল লক্ষ্য সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা। এ ছাড়া লেবার পার্টির আরেক এমপি ড্যারেন জোন্স একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, বিপদটি বাস্তব নাকি কেবলই জল্পনা-কল্পনা—সেটি ভাবার সময় নেই, সরকারগুলোকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এদিকে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্দরমহলেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর ২৮ বছর বয়সী গবেষক জেকুব কক্সন সম্প্রতি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার অভিযোগ, সবার আগে শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করার এক বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় নেমে এআই কোম্পানিগুলো ‘আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে’। যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের কাছে অ্যানথ্রোপিক তাদের সর্বশেষ এআই মডেল ‘মিথোস ৫.১’ প্রকাশের আগে পরীক্ষার জন্য জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এআই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কংগ্রেসের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ৮১ শতাংশ আমেরিকান এআই-এর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে—এমন জরিপের তথ্য তুলে ধরে স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমরা অল্প কিছু লোভী মানুষকে ঈশ্বরের ভূমিকা নিতে এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দিতে পারি না।’ তবে সব বিশেষজ্ঞই যে এআই-কে পৃথিবীর শেষ পরিণতি বা কেয়ামতের হুমকি হিসেবে দেখছেন, তা নয়। বেশ কয়েকজন গবেষকের মতে, এই ধরনের বিষয়ে অতিরিক্ত নজর দেয়ায় বর্তমানের আসল সমস্যাগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। সারে ইনস্টিটিউটের ড. অ্যান্ড্রিউ রগোইস্কি যেমন মনে করেন, অত্যন্ত উন্নত এআই প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ও সীমাবদ্ধ প্রমাণিত হতে পারে। সোফেয়ার এআই রিসার্চ ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ডেভিড বার্বার অতি-কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এআই-এর জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সিকিউরিটি আপডেট প্রয়োজন হলেও এটি একটি অত্যন্ত উপযোগী হাতিয়ার। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্যান্ড্রা ওয়াখটার ‘টার্মিনেটর সিনেমার মতো কল্পকাহিনী’ কেন্দ্রিক আতঙ্ককে বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এর চেয়ে বরং এআই-এর কারণে মানুষের চাকরিচ্যুত হওয়া, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং এআই ডেটা সেন্টারের ফলে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এসএইচ/ |