কাদামাখা স্বপ্নের নিঃশব্দ সমাধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

|| মিনহাজ উদ্দীন আত্তার ||

কাকডাকা ভোর থেকেই আকাশের মুখ ভার। মেঘগুলো যেন শুধু বৃষ্টি নিয়ে আসেনি; তাদের বুকেও জমে আছে এক অনামা বিষণ্নতা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল তখনও পুরোপুরি হাওরে পৌঁছায়নি, কিন্তু বাতাসের গায়ে তার আগমনী বার্তা স্পষ্ট। দূরের নদীগুলো অস্বাভাবিক ফুলে উঠেছে। পানির রং বদলে গেছে। যেন কোনো অস্থির প্রাণী বাঁধ ভেঙে ছুটে আসার অপেক্ষায়।

হাওরের মানুষ এসব লক্ষণ চেনে। তারা আকাশের ভাষা পড়তে জানে, বাতাসের গন্ধ শুঁকে বিপদের আভাস পায়। তবু প্রতি বছরই তারা শেষ পর্যন্ত আশায় বুক বাঁধে। কারণ কৃষকের জীবনে আশা ছাড়া আর কোনো মূলধন নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কাইশ্যা বিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আহাদ মিয়া। দূরে তার ছয় বিঘা জমি। বাতাসে দুলছে পাকা ধানের শীষ। সকালের আলো পড়ে সোনালি রঙগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে, বিলের বুকে কেউ এক টুকরো রোদ বিছিয়ে দিয়েছে।

অনেকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি। তারপর মাটিতে বসে একমুঠো ধান ছিঁড়ে হাতে নিলেন। আঙুলের ফাঁকে শীষগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলেন। ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুখানি হাসি ফুটে উঠল।
এবার ফলন ভালো হয়েছে।
খুব ভালো।
এমন ফলন বহু বছর পাননি।

পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই আহাদ মিয়ার জীবনটা খুব বড় নয়। তার পৃথিবী বলতে এই কয়েক বিঘা জমি, টিনের ছোট্ট ঘর, স্ত্রী রহিমা, কলেজে পড়া ছেলে রাকিব আর বিয়ের বয়স হয়ে আসা মেয়ে হালিমা।

এই ছয় বিঘা জমির ভেতরেই তাদের হাসি-কান্না, ঈদ, অভাব, ভবিষ্যৎ—সবকিছু গুঁজে রাখা।

এবার ধান উঠলে প্রথমেই এনজিওর ঋণটা শোধ করবেন। তারপর হালিমার বিয়ের জন্য একটু একটু করে টাকা জমাবেন। ছেলেটার কলেজের বেতনও কয়েক মাস বাকি। রহিমার হাঁটুর ব্যথাটা অনেক দিন ধরেই বেড়েছে। শহরে ভালো ডাক্তার দেখানো দরকার।

প্রতিটি স্বপ্নের নিচে লেখা আছে একটাই শব্দ—
ধান।
ধান উঠলে হবে।
ধান উঠলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে উঠোনে বসে ধান কাটার হিসাব করছিলেন আহাদ মিয়া। রহিমা ভাত বেড়ে দিতে দিতে বললেন,
— "আল্লাহ চাইলে আর ক'দিন। তারপর একটু শান্তি মিলব।"
আহাদ মিয়া মৃদু হেসে বললেন,
— "শান্তি বড় মানুষের জিনিস রে রহিমা। আমরা শুধু কিস্তির ফাঁকে ফাঁকে একটু নিঃশ্বাস নিতে পারলেই হয়।"
রহিমা কিছু বললেন না। শুধু স্বামীর থালায় আরেকটু ডাল তুলে দিলেন।

ঘরের এক কোণে বসে হালিমা পুরোনো একটা ওড়নায় সুঁই-সুতো চালাচ্ছিল। মেয়েটা মাঝে মাঝে বাবার দিকে তাকাচ্ছিল। তারও ছোট্ট কিছু স্বপ্ন আছে। বিয়ের সময় বাবাকে যেন মানুষের কাছে হাত পাততে না হয়।

রাকিব বই খুলে বসেছে ঠিকই, কিন্তু চোখ বইয়ে নেই। বাবার মুখের হাসিটা সে অনেক দিন পর দেখেছে।
সেই রাতেই প্রথম বৃষ্টি নামল।

টিনের চালের ওপর টুপটাপ শব্দ পড়তে লাগল। রহিমা ঘুমিয়ে পড়লেও আহাদ মিয়ার ঘুম এল না।
তিনি উঠোনে বেরিয়ে দাঁড়ালেন।
বৃষ্টির গন্ধে ভিজে আছে চারদিক।

আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললেন,
— "ইয়া আল্লাহ... আর কয়টা দিন। শুধু ধানগুলো ঘরে তুলতে দিও। তারপর যত খুশি বৃষ্টি দিয়ো।"
আকাশ কোনো উত্তর দিল না।
শুধু দূরে কোথাও মৃদু গর্জে উঠল মেঘ।
পরদিন বৃষ্টি আরও বাড়ল।
তারও পরদিন।
তারও পরদিন।

নদীর পানি অস্বাভাবিক দ্রুত বাড়তে লাগল। বাজারে যাওয়া মানুষজন ফিরে এসে বলতে লাগল, উজানে নাকি পাহাড়ি ঢল নেমেছে। কয়েকটি বাঁধের অবস্থা ভালো নয়।

চায়ের দোকানে বসে সবাই আলোচনা করছিল।
কেউ বলল, "এত পানি শেষ পর্যন্ত আইব না।"
আরেকজন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
"হাওরের পানি কখন কেমনে রূপ বদলায়, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।"
আহাদ মিয়া চুপচাপ কথাগুলো শুনলেন।
তার বুকের ভেতর হঠাৎ অকারণ একটা কাঁপুনি উঠল।
বাড়ি ফিরে তিনি আর কারও সঙ্গে তেমন কথা বললেন না।
সন্ধ্যার আগে একবার শেষবারের মতো জমির দিকে গেলেন।
ধানের শীষগুলো বাতাসে দুলছে।
দূরে কালো মেঘ জমছে।
হাওয়ার ভেতর কেমন একটা অচেনা গন্ধ।
মনে হলো, প্রকৃতি যেন নিঃশব্দে কোনো দুঃসংবাদ লিখে রাখছে দিগন্তের ওপারে।

রাত তখন অনেক গভীর।
বৃষ্টির শব্দে চারপাশ ডুবে গেছে। টিনের চাল যেন আকাশের সব কান্না একা বহন করছে। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এল মানুষের আতঙ্কিত চিৎকার।
— "পানি আইতাছে!"
— "বাঁধ ভাইঙা গেছে!"
— "সবাই বাইর হইয়া আসো!"

আহাদ মিয়া লাফ দিয়ে উঠলেন। দরজা খুলতেই এক ঝাপটা ঠান্ডা বাতাস তার বুকের ভেতর পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল। অন্ধকারের মধ্যে শুধু মানুষের ছোটাছুটি, টর্চের আলো আর আতঙ্কের ছায়া।

তিনি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না।
লুঙ্গি হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে ছুটলেন কাইশ্যা বিলের দিকে।
যত সামনে এগোচ্ছেন, ততই গর্জনটা স্পষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে, কোনো উন্মত্ত দানব সবকিছু গিলে খেতে ছুটে আসছে।

বিলের কাছে পৌঁছে তিনি থমকে দাঁড়ালেন।
চোখের সামনে যে দৃশ্য, তা বিশ্বাস করার শক্তি তার ছিল না।
অথই পানি।
যেখানে গতকালও সোনালি ধান বাতাসে মাথা দোলাচ্ছিল, সেখানে আজ উন্মত্ত স্রোত ঘূর্ণি তুলে ছুটে চলছে। শীষগুলো একবার জেগে উঠছে, আরেকবার তলিয়ে যাচ্ছে। যেন ডুবন্ত মানুষের শেষ আর্তি।

আহাদ মিয়ার ঠোঁট শুকিয়ে গেল।
তিনি বিড়বিড় করে বললেন,
— "না... না... এইডা হইতে পারে না..."
কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি পানিতে নেমে পড়লেন।
চারদিক থেকে মানুষ চিৎকার করে উঠল।
— "আহাদ ভাই, যাইয়েন না!"
— "স্রোত অনেক!"

কিন্তু তখন আর কোনো কথাই তার কানে পৌঁছাচ্ছিল না।
যে মানুষটা ছয় মাস ধরে প্রতিটি চারা নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন, তিনি কীভাবে দূরে দাঁড়িয়ে তার মৃত্যু দেখবেন?

হাঁটুসমান পানি মুহূর্তেই কোমর ছুঁয়ে ফেলল।
তিনি হাত বাড়িয়ে একগুচ্ছ ধান আঁকড়ে ধরলেন।
শীষগুলো এখনও কাঁচা জীবনের গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কিন্তু তাদের শিকড়ের নিচে মাটি নেই।
শুধু কাদা আর উন্মত্ত জলরাশি।

আহাদ মিয়া মরিয়া হয়ে কয়েক গোছা ধান ওপরে তোলার চেষ্টা করলেন।
স্রোত আবার কেড়ে নিল।
তিনি আবার ধরলেন।
আবার হারালেন।

মনে হচ্ছিল, তিনি ধান নয়—নিজের ছেলের পড়াশোনা, মেয়ের বিয়ে, স্ত্রীর ওষুধ, নিজের সারাজীবনের ঘাম—সবকিছুই দুই হাতে ধরে রাখতে চাইছেন।

কিন্তু প্রকৃতি কখনো কখনো মানুষের শক্তিকে বড় নির্মমভাবে তুচ্ছ করে দেয়।
বৃষ্টি তখনও থামেনি।

আকাশ আর হাওর যেন এক হয়ে গেছে।
পানির ওপর ভেসে যাচ্ছে ধানের শীষ, খড়, গাছের ডাল, মানুষের ভাঙা স্বপ্ন।
হঠাৎ তার মনে পড়ল রহিমার কথা।
বিকেলে বের হওয়ার আগে রহিমা বলেছিল,
— "এত চিন্তা কইরো না। আল্লাহ চাইলে কিছু একটা হইব।"
তিনি তখন শুধু হেসেছিলেন।
আজ সেই হাসিটা নিজের কাছেই অপরিচিত লাগছে।

হঠাৎ বুকের ভেতর তীব্র একটা মোচড় উঠল।
মনে হলো, কেউ যেন ভেতর থেকে বুকটা শক্ত করে চেপে ধরেছে।
তিনি ডান হাত দিয়ে বুক চেপে ধরলেন।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
চোখের সামনে সব ঝাপসা।
তারপরও বাঁ হাতের মুঠো থেকে ধানের শীষগুলো ছাড়লেন না।
মনে হলো, এই শীষগুলো ছেড়ে দিলে তিনি আর কিছুই ধরে রাখতে পারবেন না।
দূরে গ্রামের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এল।
"হাইয়া আলাল ফালাহ..."
সফলতার আহ্বান আকাশে ছড়িয়ে পড়ল।

আর আহাদ মিয়ার চোখের সামনে ভেসে উঠল তার ছোট্ট সংসার।
রহিমার ক্লান্ত মুখ।
হালিমার নীরব স্বপ্ন।
রাকিবের বইয়ের পাতা।
তারপর তিনি আকাশের দিকে তাকালেন।
চোখে তখন আর জল নেই।
শুধু এক গভীর ক্লান্তি।
কাঁপা ঠোঁটে ফিসফিস করে বললেন,
— "ইয়া রব... আমি তো চেষ্টা কম করি নাই..."
বাকিটুকু আর বলা হলো না।
হঠাৎ শরীরটা কেঁপে উঠল।
হাঁটু ভেঙে তিনি পানির ভেতর বসে পড়লেন।
তার মুঠোয় তখনও শক্ত করে ধরা কয়েকটি আধপাকা ধানের শীষ।

মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের মানুষ ছুটে এল।
কেউ তার কাঁধ ধরল।
কেউ চিৎকার করে বলল,
— "তাড়াতাড়ি ধরো! আহাদ ভাই পড়ে গেছে!"
উন্মত্ত পানির বুক চিরে কয়েক জোড়া হাত তাকে টেনে তীরে তুলতে লাগল।
কিন্তু সবার চোখেই তখন এক অদৃশ্য আশঙ্কা।
কারণ কখনো কখনো মানুষকে ডুবিয়ে দেয় শুধু বন্যার পানি নয়—
ভেঙে যাওয়া স্বপ্নও।

তীরে তোলার পরও কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না।
আহাদ মিয়ার চোখ দুটো আধখোলা। ঠোঁটদুটো নিস্তব্ধ। বুকে আর কোনো ওঠানামা নেই।
গ্রামের দু-একজন তড়িঘড়ি করে বুকে চাপ দিল। কেউ হাতের তালু ঘষতে লাগল। কেউ কাঁপা গলায় কালিমা পড়তে লাগল।

কিন্তু আহাদ মিয়া তখন এমন এক নীরবতায় পাড়ি জমিয়েছেন, যেখানে মানুষের কোনো ডাক পৌঁছায় না।

অদ্ভুত ব্যাপার, তার ডান হাতটা বুকের ওপর থেমে থাকলেও বাঁ হাতের মুঠোয় তখনও শক্ত করে ধরা কয়েকটি আধপাকা ধানের শীষ।

মৃত্যুও যেন কৃষকের হাত থেকে তার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতে পারেনি।
বৃষ্টি তখনও ঝরছিল।
মনে হচ্ছিল, আকাশও যেন সেদিন হাওরের সঙ্গে একসঙ্গে কাঁদতে শিখেছে।

দুপুরের দিকে আহাদ মিয়ার নিথর দেহ বাড়ির উঠোনে পৌঁছাল।
চারদিকে মানুষের ভিড়।
কেউ কথা বলছে না।
শুধু চাপা দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার শব্দ।
রহিমা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি।
স্বামীর মুখের ওপর সাদা কাপড়টা সরিয়ে দিতেই যেন সময় থেমে গেল।
তিনি কিছুক্ষণ নির্বাক তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীরে ধীরে আহাদ মিয়ার কপালে হাত রাখলেন।
হাতটা ছিল বরফের মতো ঠান্ডা।
রহিমার ঠোঁট কেঁপে উঠল।
— "এইবারও কইলা না... কই যাইতাছো..."
এরপর আর কোনো শব্দ বের হলো না।
তিনি শুধু নিঃশব্দে স্বামীর বুকে মাথা রেখে বসে রইলেন।
যে মানুষটার সঙ্গে সারাজীবন অভাব ভাগ করে নিয়েছেন, আজ তার শেষ নীরবতাটুকুও ভাগ করে নিচ্ছেন।

এক কোণে দাঁড়িয়ে হালিমা ওড়নার আঁচল মুখে চেপে কাঁদছে।
বাবার জন্য জমিয়ে রাখা কত কথা আর বলা হলো না।
রাকিব মানুষের ভিড়ের মাঝখানে স্থির দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখে জল নেই।
কিছু কিছু শোক মানুষের কান্নাকেও স্তব্ধ করে দেয়।
হঠাৎ ছোট্ট রায়হান বাবার কাছে এগিয়ে এল।
সে এখনও মৃত্যুর অর্থ বোঝে না।
নিথর মুখটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে বাবার হাত ধরল।
তারপর শিশুসুলভ সরলতায় বলল,
— "আব্বা... চলেন, বাড়ি যাই।"

উঠোনজুড়ে হঠাৎ এমন এক নীরবতা নেমে এল, যার শব্দ কান্নার চেয়েও ভারী।
কেউ উত্তর দিতে পারল না।
দূরে হাওরের দিকে তাকালে দেখা যায়, জলরাশি এখনও স্থির হয়ে শুয়ে আছে।
তার বুকের নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছে হাজার হাজার বিঘা ধান।
অসংখ্য মানুষের ঘাম।
অসংখ্য সন্তানের ভবিষ্যৎ।
সন্ধ্যার আগে গ্রামের কবরস্থানে আহাদ মিয়াকে দাফন করা হলো।
মাটি দেওয়ার আগে গ্রামের এক বৃদ্ধ তার শক্ত হয়ে থাকা হাতের মুঠো আলতো করে খুললেন।
ভেতর থেকে বেরিয়ে এল কাদা মাখা কয়েকটি ধানের শীষ।
বৃদ্ধ মানুষটি অনেকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর শীষগুলো আহাদ মিয়ার বুকের পাশে রেখে আস্তে করে বললেন,
— "এইগুলা আপনারই থাক, ভাই। এইগুলার জন্যই তো জীবনভর লড়ছেন।"
এক মুঠো মাটি ধীরে ধীরে ঢেকে দিল মানুষটিকে।

সন্ধ্যার আজান ভেসে এল।
বৃষ্টি থেমে গেছে।
পশ্চিম আকাশের মেঘের ফাঁক গলে সূর্যের শেষ আলো কবরের ভেজা মাটিতে এসে পড়ল।
পরদিন ভোরে হাওরের ওপর আবার বাতাস বয়ে গেল।
ডুবে থাকা ধানের শীষগুলো পানির নিচে নীরবে দুলে উঠল।

দূর থেকে মনে হচ্ছিল, যেন অগণিত ক্লান্ত কৃষক এখনও মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছেন।
হয়তো তারা হার মানেননি।
হয়তো তারা শুধু পরের ঋতুর অপেক্ষায় আছেন।
কারণ মাটির মানুষের স্বপ্ন ডুবে যেতে পারে, কিন্তু মাটি তাকে আবারও ডেকে নেয়।
আর সেই ডাকে সাড়া দিয়েই, প্রজন্মের পর প্রজন্ম, কৃষকেরা ফিরে আসে মাঠে—
নিজেদের জন্য নয়,
আমাদের সবার অন্নের জন্য।

লেখক : আলেম ও কৃষি উদ্যোক্তা
ফাউন্ডার: কতকিছুর হাট
ই-মেইল: minhazantor10@gmail.com