
|
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়
প্রকাশ:
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৭ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এ রায় দেন। আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় রুল দেন। আজ রুল খারিজ করলেন হাইকোর্টের নতুন এ বেঞ্চ। রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর। পরে এনবিআরের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন,২০১৭ সালে দুটি রিট পিটিশন ফাইল করা হয়।।বিষয়টা হচ্ছে এরকম যে, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্টে পৌঁছায় যে—গ্রামীণ কল্যাণকে গ্রামীণ টেলিকম কিছু আর্থিক সহায়তা দেবে। সেই আর্থিক সহায়তার প্রতিদান হিসেবে গ্রামীণ টেলিকম তার অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে, গ্রামীণ কল্যাণের শেয়ার থেকে অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে ৪২.৫০% প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে প্রদান করবে। পরবর্তী সময়ে এটা যখন ইনকাম ট্যাক্স অথরিটি তাদের ফাইলটা আন্ডার সেকশন ১২০-তে রিওপেন করে এবং দেখে যে, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণ যে প্রফিটটা আর্ন করেছে, সেটার ওপর তারা অ্যাট সোর্সে উৎসে কর কর্তন করেনি। যে কারণে এই রিওপেন। পরবর্তী সময়ে এটা রিভিশন ফাইল করে বিফোর দ্য কমিশনার অব ট্যাক্সেস। তার এগেইনস্টে হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করা হয়। আইনজীবী আরও বলেন, দীর্ঘ শুনানির পর আজকে এই মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিচারপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিম মহোদয়ের বেঞ্চে রায় প্রদান করেন এবং রুলটি ডিসচার্জ করা হয়। যার ফলে এই রায়টি ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্টের পক্ষে, তথা সরকারের পক্ষে আসে। এবং এতে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা। যা এখন ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্ট এই প্রতিষ্ঠান থেকে আইন অনুযায়ী আদায় করতে পারবে এবং ডিমান্ড নোটিশ যথাযথভাবে ইস্যু করবে। আইও/ |