
|
টাকা তুলছেন গ্রাহকরা, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক বাড়ছে আস্থা
প্রকাশ:
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫০ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে। কার্যক্রমে গতি ফেরার পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যেও ব্যাংকটির প্রতি আস্থা বাড়ছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম দুই দিনে প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহক ৫৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রথম দিন প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক ২৫৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক ৩২৭ কোটি টাকা ফেরত নিয়েছেন। এর আগে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা, তৃতীয় দিন ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি টাকা এবং শেষ দিন ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়। তবে আবেদনকারীর তুলনায় প্রকৃত অর্থ উত্তোলনের হার কম হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ২ সেপ্টেম্বরের ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে মঙ্গলবার ৩২৭ কোটি টাকা তুলেছেন ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক। অর্থাৎ আবেদন করা গ্রাহকদের একটি বড় অংশ টাকা তুলতে আসেননি কিংবা আবেদন প্রত্যাহার করেছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আস্থার কারণে অনেক গ্রাহক আবেদন প্রত্যাহার করছেন। অনেকে আবেদন করেও টাকা তুলতে আসেননি। ফলে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম গ্রাহক টাকা তুলেছেন। আগামীতে টাকা তোলার হার আরও কমে গিয়ে গ্রাহকরা বরং ব্যাংকে নতুন করে টাকা জমা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, টাকা ফেরতের পাশাপাশি গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ফলে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দিতে তারল্য সহায়তা হিসেবে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটিকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন উত্তোলন করলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা উত্তোলন না করে আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। আইও/ |